আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে 'চিন্ময় অমৃত মহোৎসব গ্লোবাল সম্মেলন'- আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে স্বামী চিন্ময়ানন্দের একটি এআই অবতারের মাধ্যমে আলাপচারিতা করেন। ১৯৯৩ সালের দু'জনের সাক্ষাতের মুহূর্তেরও স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠান মঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি চিন্ময়ানন্দের একটি হলোগ্রাম রূপের কাছে নিজের ভবিষ্যতের কর্মোদ্যোগের জন্য আশীর্বাদ চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আপনার সঙ্গে আমার দেখা হওয়াটা পরম সৌভাগ্যের ছিল। আজ দেশের জন্য যে কাজগুলি আমি করতে চাই, তার জন্য আপনার আশীর্বাদপ্রার্থী।" জবাবে চিন্ময়ানন্দের এআই রূপটি মোদীকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, "গোটা দেশ তোমার সঙ্গে রয়েছে, নরেন্দ্র।"
এই অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে আবেগঘন হয়ে পড়েন মোদি। আধ্যাত্মিক গুরুর আশীর্বাদে কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। বলেন, "২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া চিন্ময় মিশনের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনের এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানে এসে ৩৩ বছর আগে ফিরে গিয়েছি।"
১৯৯৩ সালে সাক্ষাৎপর্বের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সেই বছর ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাস নাগাদ শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম মহাসভার শতবর্ষ উদযাপনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানাতে স্বামীজির সঙ্গে দেখা করেন তিনি। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে শিকাগো যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপর ৩ আগস্ট আচমকাই প্রয়াত হন এই আধ্যাত্মিক সাধক। ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগোর মূল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে স্বামীজির অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভব করেছিলেন মোদি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে গত ২৫ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমি দেশের সেবা করে চলেছি। আমার এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় চিন্ময় গুরুদেবের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে ছিল।"
উল্লেখ্য, ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৯,০০০-এরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মিশন গীতা ও বেদান্তের শিক্ষা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।
