Published on
:
2 min read
এই সময়, কামারহাটি ও মেদিনীপুর: পুজোর মরশুমে নিজের চেনা ডেরায় পা রাখতে না পারার তীব্র ক্ষোভ ও যন্ত্রণায় এ বার রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর জল্পনা উস্কে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। উৎসবের দিনগুলিতে বিধানসভা এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে পৌঁছতে না পেরে একরাশ হতাশা উগরে দিয়ে প্রবীণ এই তৃণমূল নেতার বিস্ফোরক মন্তব্য, 'আই হেট পলিটিক্স!' যেখানে মানুষের জন্যই কাজ করা যায় না, সেখানে থেকে লাভ কী—সেই প্রশ্ন তুলেই আনুষ্ঠানিক অবসরের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন মদন।
প্রায় একই আক্ষেপ শোনা গিয়েছে কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহার কণ্ঠেও। ঋতব্রত শিবিরে গেলেও নিজের এলাকায় ফিরতে না পেরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, 'আমি কেশপুরের বিধায়ক। সরকার দু'জন নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছে। কিন্তু কেশপুরে যেতে পারছি না। প্রশাসনের আধিকারিক থেকে রাজনৈতিক নেতা যাকেই ফোন করছি, তিনি বলছেন, এখন যাবেন না।' ঋতব্রত শিবিরে গিয়েও মমতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন শিউলিও। তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধায় আমার নেত্রী। যতদিন বাঁচব ততদিন বলব।'
ফি বছর পুজোর সময়ে কামারহাটিতে বস্ত্র বিতরণ থেকে শুরু করে খুদেদের মধ্যে উপহার বিলি করতে দেখা যায় মদনকে। তবে এ বারের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মদন। কিন্তু তাতেও নিজের বিধানসভা এলাকায় ঢোকার সুযোগ পাননি তিনি। মানুষের চরম অসহায়তার দিনে কাছে থাকতে না পারায় কার্যত হাতজোড় করে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন তিনি।
নিজের কেন্দ্রে যেতে না পারার নেপথ্যে এলাকার সমাজবিরোধীদের তাণ্ডব ও প্রকাশ্য হুমকিকেই দায়ী করেছেন কামারহাটির চারবারের বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, অসামাজিক কাজে রাশ টানতে চাওয়াই তাঁর অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, 'দুষ্কৃতীদের এই আস্ফালন লরেন্স বিষ্ণোইদের চেয়ে কিছু কম নয়।' দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরেও তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে দাবি করে ভিডিয়ো ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
তবে কি ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন? মদনের সাফ জবাব, তিনি পিছু হটার পাত্র নন। একাই বিটি রোড ধরে কামারহাটিতে ঢুকবেন তিনি। সঙ্গে থাকবে কেবল মায়ের ছবি। আদ্যাপীঠ ও ভবতারিণী মন্দিরে পুজো দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাঁর চ্যালেঞ্জ, 'তাতে যদি গুলি চলে, মানুষ দেখবে।' ঋতব্রত শিবিরে যাওয়া নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ সমালোচনার প্রেক্ষিতে তাঁর দার্শনিক জবাব, 'রাজনীতির কারবারিরা নন, মানুষের একমাত্র আশ্রয় হতে পারেন কেবল ঈশ্বর।' যদিও বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলির সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, 'মদনবাবুর বোধোদয় হয়েছে। উনি ভাবছেন রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন। যেসব দুষ্কৃতীদের কথা বলছেন, তারা তো ওঁর হাতেই তৈরি। হয়তো ভাগ-বাঁটোয়ারা দেননি বলে ভয় পাচ্ছেন।'
