সংঘর্ষের জেরে ২০১৫ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একমাত্র ছাত্রাবাস। দীর্ঘ ১১ বছরেও চালু হয়নি চারতলাবিশিষ্ট আবাসিক ভবনটি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনটি এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ক্লাস চললেও আবাসন সংকটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখলেও বছরের পর বছর ধরে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধান হয়নি।
২০১৫ সালে সংঘর্ষের জেরে বন্ধ হয়ে যায় ইনস্টিটিউটের একমাত্র ছাত্রাবাসটি। এরপর ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসিক সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা এবং সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চারতলাবিশিষ্ট ছাত্রাবাসটির বিভিন্ন অংশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
আবাসিক সুবিধা না থাকায় দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে মেস কিংবা ভাড়া বাসায়। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবনযাপনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে ছাত্রাবাস থাকলে চাটমোহর থেকে প্রতিদিন সকালে যাতায়াত করতে হতো না। সকালে অনেক সময় গাড়ি পাওয়া যায় না। ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করার সুযোগ পেলে তাদের জন্য সুবিধা হতো।
শিক্ষকদের মতে, ছাত্রাবাসে থাকার অনেক সুবিধা রয়েছে। এটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা নামমাত্র খরচে আবাসিক সুবিধা পেতেন।
একজন শিক্ষক বলেন, ‘ছাত্রাবাসের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে একদিকে ছাত্রের বাবা-মার পক্ষে কষ্ট বেয়ার করা সহজ হবে তার জন্য। আর আরেকটা বিষয় হলো ছাত্ররা একাডেমির ভেতর থেকে লেখাপড়া করতে পারতো।’
ইনস্টিটিউটের একমাত্র ছাত্রাবাসটি সংস্কারের জন্য বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ছাত্রাবাসসহ ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
পাবনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সামসাদ খলিল বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকে এই হোস্টেল চালু করার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দপ্তরে চিঠিপত্র প্রেরণ করে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় এটা সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’
আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এমন প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের।
এমএ
