পুজোর মরশুমে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের বুকস্টলে হামলা, ভাঙচুর কার্যত নিত্য অভিযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রেই বামেদের নিশানায় ক্ষমতাসীন বিজেপির সদস্যরা। যদিও সামগ্রিকভাবে বিজেপির শীর্ষ নেতারা এর নিন্দাই করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে উলটপুরাণ আমতায়! এখানকার নারিট বাজারের সিপিএমের বুকস্টলে গেলেন আমতার বিজেপি বিধায়ক অমিত সামন্ত। বামপন্থীদের বুকস্টল শুধু ঘুরে দেখাই নয়, তিনি সেখান থেকে কিছু বইও কিনলেন। বিজেপির বিধায়কের এই সৌজন্যকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সিপিএমের কর্মী, সমর্থকরা।
প্রতি বছরই দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সামনে বামপন্থী প্রগতিশীল মার্কসীয় সাহিত্যের স্টল বসে। এ বছর স্টল দেওয়া নিয়ে প্রথম থেকেই চাপানউতোর চলেছে। তারপর আদালতের নির্দেশে বামপন্থীরা পুজোমণ্ডপে পাশেই স্টল দিয়েছে। তবে ইতিমধ্যে বহু জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বুকস্টলগুলিতে। হাওড়ার গ্রামীণ এলাকার পাঁচলা বিধানসভা কেন্দ্রেও বামেদের একটি বুক স্টলে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। যদিও তারা বিজেপির কেউ নেই বলেও দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, সকলে এর তীব্র নিন্দা করেছেন।
এরই মধ্যে বেনজির সৌজন্য দেখালেন আমতার বিজেপি বিধায়ক অমিত সামন্ত। তিনি সোমবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ নারিট বাজারে থাকা সিপিএমের বুকস্টলে যান। সেখান থেকে তিনি দুটি বইও কিনেন। তার মধ্যে একটি মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেকানন্দ, অন্যটি কার্ল মার্কসের চোখে ব্রিটিশ ভারত। বিধায়ক অমিত সামন্ত জানান, ”হতে পারে তাদের চিন্তাধারার সঙ্গে আমার চিন্তাধারা মিল নেই। কিন্তু যেহেতু বইয়ের দোকান তাই আমি সেখানে গিয়েছি এবং বইও কিনেছি। সেই বইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের বক্তব্য কী, সেটাও জানতে পারব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে এর মাধ্যমে একাধিক বার্তা দিলেন বিধায়ক। দিকে দিকে যে সিপিএমের বুক স্টলে হামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে বার্তা দিলেন বিধায়ক। তিনি রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মতোই অবস্থান নিলেন। পাশাপাশি তাঁর এলাকায় যাতে কেউ সিপিএমের বুকস্টলে হামলা করতে না পারে, সেই বার্তাও তিনি দিয়ে রাখলেন নিজে সিপিএমের বুকস্টল গিয়ে এবং সেখান থেকে বই কিনে। এনিয়ে সিপিএমের কৃষক নেতা পরেশ পাল বলেন, ”অমিতবাবু যেটা করেছেন নিঃসন্দেহে ভালো। তবে দিকে দিকে যেভাবে সিপিএমের বুকস্টলে ভাঙচুর হচ্ছে সেটা নিন্দনীয় তো বটেই আর বলা যায় বিজেপি নেতৃত্বরা ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন। আমি চাই, চারিদিকে যাতে শান্তি বজায় থাকে সেই উদ্যোগ আরও নেবেন বিজেপি নেতারা।”
