October 18, 2026, 4:17 pm
লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা
Reporter Name
- Update Time : Sunday, October 18, 2026
- 13 Time View
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, বর্ণবাদী প্রচারণা এবং পুনর্বাসন নিয়ে ছড়ানো নানা গুজবের কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দেশটিতে বসবাসরত সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার নাগরিকেরা। আগে থেকেই নানা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসকারী এসব মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বর্তমানে আরও বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অভিবাসীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ত্রিপোলি ও এর আশপাশের অঞ্চলে সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার প্রায় সাত লাখ মানুষ বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ সুদানসহ যুদ্ধপীড়িত বিভিন্ন দেশ থেকে পালিয়ে এসেছেন। ইউরোপে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় লিপ্ত অভিবাসীদের জন্য লিবীয় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে অভিবাসীপ্রবণতা ও তথাকথিত পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে ধারাবাহিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে।
অধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, লিবয়ায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, অপহরণ এবং দাসত্বের মতো গুরুতর ঝুঁকিগুলো আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জনসমাগমস্থলে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাসের সংকট এবং নিয়মিত হয়রানি। এমনকি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পরিচালিত অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রগুলোতেও হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে, যা প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত কয়েক মাসে ত্রিপোলির শহীদ চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তাদের উপস্থিতি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে কৃষ্ণাঙ্গ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে নিয়মিতভাবে অবমাননাকর মন্তব্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যদিও জাতীয় ঐক্যের সরকার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আড়ালে সহিংসতা বা জীবন বিপন্ন করার হুমকিকে সমর্থন করা হবে না বলে সতর্ক করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার কথা বলেছে, তবুও বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, ভিত্তিহীন তথ্য ও গুজবের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অপপ্রচার বন্ধে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অভিবাসীরা প্রতিনিয়ত চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


