বন ধ্বংস করে কৃষি সম্প্রসারণ, গবাদিপশু পালন ও শিল্প বাগান গড়ে তোলা স্বল্প মেয়াদে বেশি লাভজনক হওয়ায় অ্যামাজন, কঙ্গো অববাহিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনভূমি ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে।
ক্রান্তীয় বন জলবায়ু স্থিতিশীলতা, পানি সরবরাহ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর অর্থনৈতিক সুফলের সামান্য অংশই পায় বন সংরক্ষণকারী দেশ ও জনগোষ্ঠী। বন ধ্বংস করে কৃষি সম্প্রসারণ, গবাদিপশু পালন ও শিল্প বাগান গড়ে তোলা স্বল্প মেয়াদে বেশি লাভজনক হওয়ায় অ্যামাজন, কঙ্গো অববাহিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনভূমি ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে। এ বৈষম্য দূর করতে গত বছর কপ৩০ সম্মেলনে চালু হয় ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরএভার ফ্যাসিলিটি (টিএফএফএফ)। এর লক্ষ্য বনভূমি সংরক্ষণ ও নির্ধারিত শর্ত পূরণের বিনিময়ে বনসমৃদ্ধ দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থ প্রদান করা। প্রস্তাবিত কাঠামোয় অর্থের অন্তত ২০ শতাংশ আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা রয়েছে।
তবে শুধু এ তহবিল দিয়ে বন সংরক্ষণের অর্থায়ন ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। অনুদান, স্বল্প সুদের ঋণ, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ফলাফলভিত্তিক অর্থায়নের পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ। ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, পরিবেশগত সুশাসন জোরদার, বন ধ্বংসে উৎসাহ জোগানো ভর্তুকি পুনর্বিন্যাস, ক্ষতিগ্রস্ত বন পুনরুদ্ধার এবং বন অক্ষুণ্ন রেখে আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে টিএফএফএফসহ সব অর্থায়ন ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে অনূদিত]
কার্লোস নোব্রে: সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী
