রাঙামাটির সাজেকে অবরোধ চলাকালে ইটের আঘাতে সেনাবাহিনীর চার থেকে পাঁচজন সদস্য এবং পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পর্যটকবাহী গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি চালানোর জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে পুলিশ। তবে গোলাগুলির ঘটনা অস্বীকার করে পুলিশের অভিযোগকে ‘সর্বৈব মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলেছে ইউপিডিএফ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ রকিব হোসেন বলেন, সকাল ১০টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা গাড়িবহর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
“একই সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জেনেছি, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি করেন,” বলেন পুলিশ সুপার।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাল্টা গুলি চালায় জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িবহরটি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পরও বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির থেমে থেমে গোলাগুলি হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলে।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান রকিব হোসেন। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, পর্যটকবাহী গাড়িবহরে গুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পর ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, সাজেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অংগ্য মারমার অভিযোগ, সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে চলমান সড়ক অবরোধ বানচাল করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নিজেরাই বিভিন্ন দিকে গুলি ছুড়েছেন।
বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি। সাজেকবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের দাবি মেনে নেওয়া এবং ওই এলাকা থেকে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান ইউপিডিএফের এই মুখপাত্র।
ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরন চাকমার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
সাজেকে অবরোধ এবং পর্যটকবাহী গাড়িবহরে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
The post সাজেকে গোলাগুলি, ইটপাটকেলে ৭ সেনা-পুলিশ আহত, ইউপিডিএফকে দায়ী appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
