আজকাল ওয়েবডেস্ক: শিল্ড ফাইনাল অতীত। ডার্বি হারের পৃষ্ঠা বদলে এবার ফোকাস এএফসিতে। ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কোচিংয়ে ইস্টবেঙ্গলের মার্কশিট ভাল। ঘরের মাঠে আল আরাবিকে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুয়ে খেলার ছাড়পত্র সংগ্রহ করেছে ইস্টবেঙ্গল। তারপর বিদেশের মাটিতে আল হোসেনের বিরুদ্ধে মনে রাখার মতো পারফরম্যান্স। ইতিহাস রচনা করতে পারত হাবাসের দল। কিন্তু শেষপর্যন্ত এক পয়েন্ট সংগ্রহ করে মাঠ ছাড়ে। বিদেশের মাটিতে যা খারাপ নয়। বরং, যেভাবে সেদিন খেলেছিল লাল ব্রিগেড, নৈতিক জয় বললে ভুল হবে না। ঘরের মাঠে এএফসিতে যাত্রা শুরুর আগে আল হোসেন ম্যাচই অনুপ্রেরণা লাল হলুদের। একইসঙ্গে দাবি, ডার্বি হারের প্রভাব এই ম্যাচে পড়বে না।
হাবাস বলেন, 'আমিও আমার ফুটবল কেরিয়ারে প্রতিনিয়ত শিখছি। কোনও ম্যাচের সঙ্গে অন্য ম্যাচের কখনওই তুলনা করা যায় না। কারণ প্রত্যেক ম্যাচ আলাদা। একইভাবে, প্রত্যেক প্রতিযোগিতার চরিত্রও ভিন্ন। তবে আগামীকালের ম্যাচটা আমাদের নকআউট ম্যাচ হিসেবেই খেলতে হবে। আল শোর্তা এবং আল শাইখের বিরুদ্ধে জিততে পারলে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু যদি হেরে যাই, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হবে। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের পরিকল্পনা এবং খেলার ধরন বদলাতে হবে।'
আগের ম্যাচের কোন ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন হাবাস? বর্ষীয়ান কোচ স্পষ্ট জানালেন, তাঁদের খেলায় দুটি অর্ধের মধ্যে বড় পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে। যেভাবে শুরু করছে দল, সেটা ধরে রাখতে পারছে না। মঙ্গল রাতে এমন চান না ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে পাশাপাশি জানিয়ে রাখলেন, ইরাকের দলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে প্রস্তুত তাঁরা। হাবাস বলেন, 'দ্বিতীয়ার্ধেও আমাদের প্রথমার্ধের মতো একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খেলতে হবে। তবে ফুটবলে প্রথম ৪৫ মিনিট এবং দ্বিতীয় ৪৫ মিনিট কখনওই একরকম হয় না। কারণ ম্যাচের ফলাফল, স্কোরলাইন, দলের পরিস্থিতি, ফুটবলারদের চোট এবং রেফারির সিদ্ধান্তের মতো একাধিক বিষয়ের ওপর খেলার গতিপ্রকৃতি নির্ভর করে। এই মুহূর্তে আমাদের দল পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে আমাদের দু'জন ফুটবলার চোটের কারণে বাইরে রয়েছে। মাত্র ১৮ জন ফুটবলারকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাও আমার কাছে বেশ কঠিন বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা যখন এই গ্রুপের অন্যতম ফেভারিট দল। অবশ্য প্রতিপক্ষেও খুব ভাল ফুটবলার রয়েছে।'
মঙ্গলবার ছ'জন বিদেশিকে পাবে ইস্টবেঙ্গল। নাচো ছাড়া সবাই ফিট। তবে প্রথম একাদশে হয়ত তিন থেকে চারজনকে রেখে শুরু করবেন হাবাস। রক্ষণে আনোয়ারের সঙ্গে জুটি বাঁধবেন জিভুলিচ। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ এবং দানি রামিরেজ। ফরোয়ার্ড লাইনে লোবা এবং লুকাসের শুরু করার সম্ভাবনা কম। কারণ দু'জনেই মাত্র ৯ দিন দলের সঙ্গে প্র্যাকটিস করেছেন। তাই হয়ত শুরুতে এডমুন্ড লালরিনডিকা বা ডেভিডকে রেখে শুরু করতে পারেন হাবাস। প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে ক্রিস ইকোনোমিডিসেরও। তবে দেশি ব্রিগেডের ওপরই জোর দিচ্ছেন স্প্যানিশ কোচ। হাবাস বলেন, 'সত্যি বলতে, এই ম্যাচে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যার দিক থেকে আমাদের কোনও বাড়তি সুবিধা নেই। কারণ বিদেশি ফুটবলার থাকলেই যে তাঁরা প্রত্যেকে খেলবেন, এমনটা নয়। সাতজন বিদেশি ফুটবলার রয়েছে বলেই যে সাতজনকেই খেলাতে হবে, তার কোনও মানে নেই। আমাদের দলে খুব ভাল ভারতীয় ফুটবলার আছে। আর আমার কাছে তাঁদের মানও বিদেশি ফুটবলারদের সমতুল্য।' স্থানীয় ফুটবলারদের বিরাট বড় সার্টিফিকেট দেন ইস্টবেঙ্গল কোচ।
হাবাসের দাবি, আল শোর্তা গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। চলতি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুতে একটি ম্যাচ জিতে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রয়েছে ইরাকের দল। আবার অন্যদিকে নিজেদের ঘরোয়া লিগে ছয় নম্বরে রয়েছে। ইরাকের দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান। তবে দু'জন বিশ্বকাপার রয়েছে বিপক্ষে। তাই ইরাকের দলকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন হাবাস। ডার্বিতে লাল হলুদের আক্রমণভাগ কেঁপে গিয়েছিল। যদিও সেদিন খেলেননি আনোয়ার আলি। এএফসির ম্যাচে ফিরবেন। তবে হাবাস সুলভ ভঙ্গিমায় ফুটবলারদের ভুল ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করতে চাননি। বলেন, 'ফুটবলে একদিন একজন খেলোয়াড় ভুল করে, অন্যদিন অন্য কেউ ভুল করে। আর প্রতিদিনই যদি আমি একের পর এক ফুটবলারকে নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে থাকি, সেটা ঠিক হবে না। কোনও নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোনও বিষয় নিয়ে কথা বলার থাকলে, আমি তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলব। প্রকাশ্যে তাঁকে নিয়ে আলোচনা করব না। বিপক্ষ শক্তিশালী। ভাল স্ট্রাইকার আছে। তবে ম্যাচটা এগারোজন বিরুদ্ধে। আমার দলেও আন্তর্জাতিক স্তরে খেলা ফুটবলার রয়েছে।' পুজোর জন্য পুলিশি নিরাপত্তা পেতে সমস্যা হয় ইস্টবেঙ্গলের। তাই যুবভারতী ভরার সম্ভাবনা নেই। কারণ সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য ১২০০০ টিকিট বাজারে ছাড়া হয়েছে। আল হোসেন ম্যাচের আত্মবিশ্বাসে ভর করে ঘরের মাঠে পরের রাউন্ডের আশা জিইয়ে রাখতে মরিয়া টিম হাবাস।
