ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। এর পরিবর্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে বিকল্প স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের জারি করা নতুন নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোরের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন, শ্রমিকদের দাবি এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানোর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে পরিচিত। সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাছাকাছি হওয়ায় স্থানটি আন্দোলনকারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে এখানে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলছে। জেন-জি নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), বিরোধী রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (১০ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। তবে কর্মসূচি ঘিরে কঠোর অবস্থান নেয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় সিজেপির অভিজিৎ দীপকে এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে তাঁদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। আটকাবস্থা থেকে মুক্তির পর রোববার (১১ অক্টোবর) দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা পিছু হটব না।’
এর কয়েক ঘণ্টা পরই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত আসে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্ট্যান্ডিং অর্ডার নম্বর এল অ্যান্ড ও/৪৮/২০২৬-এর আওতায় নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেন। আদালত এমন স্থান নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিক্ষোভকারীদের জন্য শৌচাগার, পানীয় জল ও চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকবে। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচল ও জরুরি পরিষেবা যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন আদালত।
বিআলো/শিলি