বিমানের ভেতর থেকে আটকের পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশের হেফাজতে ছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। এ সময় তাদের পৃথক স্থানে রাখা, জোর করে মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া এবং আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সৌরভ দাস। তার আরও সন্দেহ, পুলিশের হেফাজতে তাদের ফোন হ্যাক বা ক্লোন করা হয়ে থাকতে পারে, এমনকি ফোনে প্রমাণও সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে।
আজ রোববার দুপুর ২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন সৌরভ দাস। তার দাবি, আটকের কোনো লিখিত কারণ বা নথি তাদের দেওয়া হয়নি। ফোন জব্দের রসিদ চাইলে পুলিশ তা দিতেও অস্বীকৃতি জানায়।
সৌরভ দাস বলেন, ‘পুরো দেশ জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা শুধু সরকারের সামনে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চান। কিন্তু এখন রাষ্ট্র তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছে।’
দিল্লিতে প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে দাবি করে সৌরভ বলেন, পুরো শহরকে দুর্গের মতো করে রাখা হয়েছে। ৫০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া, দোকানপাট ও সড়কে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সৌরভের ভাষ্য, তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলনকে জনসমক্ষে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে সরকার।
বিমান থেকে আটক করার অভিযোগ
সৌরভ দাসের অভিযোগ, তারা দিল্লিতে পৌঁছানোর পরপরই পুলিশ বিমানের সিঁড়িতে উঠে তাদের আটক করে। তার ভাষায়, তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে, যেন তাদের অপহরণ করা হচ্ছে।
সৌরভ বলেন, ‘আমরা জানতাম, আমাদের আটক করা হতে পারে। কিন্তু এভাবে আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হবে, তা ভাবিনি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি পলাতক ব্যবসায়ী নীরব মোদি ও বিজয় মালিয়ার নাম উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, একই সরকার তাদের বিমানে করে বিদেশে চলে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে, অথচ আন্দোলনকারী নাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে।
তিনজনকে রাখা হয় তিন স্থানে
আটকের পর তাদের একসঙ্গে না রেখে পৃথক স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন সৌরভ। তিনি জানান, তাকে আর কে পুরমে রাখা হয়েছিল। আশুতোষ রাঙ্কাকে নেওয়া হয়েছিল বল্লভগড়ে। আর অভিজিৎ দিপকেকে কোথায় রাখা হয়েছিল, তা তিনি নিশ্চিত করে বলেননি।
সৌরভের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে জোর করে মুঠোফোন নেওয়া হয়। তারা ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানাননি; তবে ফোন জব্দের লিখিত রসিদ বা নথি চেয়েছিলেন। পুলিশ তা দিতে রাজি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের আটকের কোনো কাগজপত্র দেয়নি, আটকের কারণও জানায়নি। আমাদের ফোন জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আমরা ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু জব্দের রসিদ চাইলেও তারা তা দেয়নি।’
আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি
আটক অবস্থায় আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার অধিকার থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সৌরভের। তার দাবি, আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ জানায়, আটক অবস্থায় তাদের কোনো অধিকার নেই।
সৌরভ বলেন, ‘আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার আইনি অধিকার আমাদের আছে। কিন্তু পুলিশ বলেছে, আটক থাকলে আমাদের কোনো অধিকার নেই। আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে অন্যদের সঙ্গে কী করা হচ্ছে, তা কল্পনা করুন।’
ফোন হ্যাক বা ক্লোন করার সন্দেহ
পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের মুঠোফোনে কী করা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌরভ দাস। তার আশঙ্কা, পুলিশ তাদের ফোন হ্যাক বা ক্লোন করে থাকতে পারে। এমনকি ফোনে কোনো প্রমাণ সংযোজন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
সৌরভের ভাষ্য, ‘আমরা সন্দেহ করছি, তারা আমাদের ফোন হ্যাক করেছে অথবা ক্লোন করেছে। হয়তো প্রমাণও বসিয়ে দিয়েছে। আমাদের এই সন্দেহ অমূলক নয়। কারণ, তারা কোনো নথি দেয়নি এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আমাদের ফোন তাদের কাছে ছিল।’
তবে ফোন হ্যাক বা ক্লোন করা কিংবা ফোনে প্রমাণ সংযোজনের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়নি।
নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের যুদ্ধ চলছে, অভিযোগ
সৌরভ দাসের অভিযোগ, দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত করা হয়েছে। তার দাবি, বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চাইলেও তাদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির এই আন্দোলন চলছে। ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
