বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। তবে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি, দক্ষ শিক্ষকের সংকট, তদারকির দুর্বলতা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় এ স্তরের শিক্ষার মান দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নবিদ্ধ। এসব সংকট মোকাবেলা, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া
সম্প্রতি আপনি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সে অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো কী বলে মনে করছেন?
আমাদের অবকাঠামোগত অনেক দুর্বলতা রয়েছে। বিগত দিনগুলোয় অবকাঠামো নির্মাণে অনেক ব্যয় হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্থাপনা নির্মাণের আগে শিক্ষার্থীদের জন্য সেগুলো কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। অনেক জায়গায় নির্মাণকাজের মানও প্রত্যাশিত পর্যায়ের ছিল না। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই কিছু স্থাপনা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
এছাড়া আমাদের কারিকুলাম আরো উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষকদের পাঠদানের পদ্ধতিতেও উন্নতির সুযোগ রয়েছে, যেখানে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষকদের জন্য উপযুক্ত শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে মনিটরিং ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।
এসব সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?
এখানে অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে এবং প্রায় প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সমাধানও সমন্বিতভাবে করতে হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষক। সঠিকভাবে পাঠদান করতে পারলে অন্য ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি থাকলেও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। কিন্তু শিক্ষক ঠিকভাবে পাঠদান করছেন কিনা, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা প্রয়োজন। শিক্ষক কী পড়াবেন, সেজন্য দরকার উন্নত কারিকুলাম। আবার শ্রেণীকক্ষে কার্যকর পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্র ও প্রযুক্তির ব্যবস্থাও থাকতে হবে। এসব বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আমরা সামগ্রিক ব্যবস্থার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করার চেষ্টা করছি।
প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট (এনএসএ) প্রতিবেদনেও বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণী উপযোগী দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। এ ঘাটতি পূরণে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?
শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির পেছনে আগের আলোচনায় উল্লেখ করা সমস্যাগুলোই মূলত দায়ী। আমরা সেগুলো সমাধানে কাজ করছি। এনএসএতে যে ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব ঘাটতি আরো বেশি হতে পারে বলে আমার ধারণা। তবে এনএসএ একটি কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে ইংরেজিতে আমাদের শিখন ঘাটতি আরো বেশি বলে মনে করি।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষকের অভাব নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। দক্ষ শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা কী?
প্রাথমিক স্তরে মূল বিষয় হলো শিক্ষক শিশুদের কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারছেন কিনা। শিশুদের পাঠদানের পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয় বা মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানের মতো নয়। এ স্তরে শিশুদের শেখানোর কৌশল সম্পর্কে শিক্ষকের ভালো ধারণা থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ন্যাশনাল একাডেমি ফর প্রাইমারি এডুকেশনের (নেপ) মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে যেসব কোর্স দেয়া হয়, সেগুলোয় আমরা কিছু পরিবর্তন আনছি। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষকই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবে নতুন করে জাতীয়করণ হওয়া কিছু বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষক রয়েছেন। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশিক্ষণের প্রতিফলন শ্রেণীকক্ষে নিশ্চিত করা। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ শ্রেণীকক্ষে দেখা যাচ্ছে না। এ ব্যবধান কমাতে আমরা কাজ করছি।
শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পাঠদানের মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে জবাবদিহি এবং মনিটরিংয়ের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। এ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?
আমাদের তিন হাজারের বেশি সদস্যের একটি মনিটরিং দল রয়েছে। তাদের দায়িত্ব কী হবে, কীভাবে মূল্যায়ন করবেন এবং তাদের নিজেদের কাজের মূল্যায়ন কীভাবে হবে—এসব বিষয় নিয়ে আমরা নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছি। এ লক্ষ্যে তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে। আমি নিজেও গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগ সফর করেছি। জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের মনিটরিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কর্মশালা করেছি, যাতে কার্যকর ও ভালো চর্চাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্মার্ট ক্লাসরুম, শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’-এর মতো উদ্যোগ রয়েছে। আমরা পুরো ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করছি।
প্রাথমিক শিক্ষায় অবকাঠামো উন্নয়নে বড় অংকের বিনিয়োগ হলেও শিক্ষার্থীদের শিখনফলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি সবসময় দেখা যায় না। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) নিয়েও রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার কী হবে?
পিইডিপি-৪-এ ভালো কিছু হয়নি, বিষয়টি এমন নয়। তবে যতটা ভালো ফল আসা উচিত ছিল, তা আসেনি। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, পিইডিপি-৪ বা পিইডিপি-৫-এর মতো বৃহৎ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। পিইডিপি-৫ শুধু একটি প্রকল্প নয়; এর আওতায় শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, পাঠ্যবই, কারিকুলাম, বিদ্যালয় ভবন, মাঠ, ওয়াশরুম ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনসহ প্রায় পুরো মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। এত বিস্তৃত বিষয়কে একটি প্রকল্পের মধ্যে রাখলে প্রতিটি ক্ষেত্রের পৃথক দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পিইডিপি-৪ থেকে প্রত্যাশিত ফল কেন আসেনি তা মূল্যায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়ে প্রকল্পটির ব্যাপকতার কারণে। আমরা এখন পিইডিপি-৫ নিয়েই কাজ করছি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের বৃহৎ কর্মসূচিকে ভেঙে যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্পে রূপ দেয়ার চেষ্টা থাকা উচিত। এতে প্রতিটি প্রকল্পের ফলাফল ও জবাবদিহি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম আধুনিকায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অতীতে কারিকুলাম পরিবর্তন নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবার কীভাবে এগোতে চান?
কারিকুলাম সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন করতে হয়। আমাদের দেশে কারিকুলাম নিয়ে সবার ভেতরে একটা ভীতি চলে এসেছে। ভীতিটা আসারও যৌক্তিক কারণ আছে। বিগত একটি সরকার কোনো আলোচনা ছাড়া, কোনো কনসালটেশন ছাড়া, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়া হঠাৎ করে বড় পরিবর্ত এনেছে এবং এমন একটা কারিকুলামে এনেছে যেটা আমাদের দেশের জন্য সময়োপযোগী নয়। এখন যেটা হওয়া উচিত, কনসালটেশনের মাধ্যমে নতুন কারিকুলাম তৈরি করা। বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেভাবেই কাজ হচ্ছে বলে আমি আশাবাদী। নতুন কারিকুলাম তৈরি হওয়ার পর তা কার্যকর করার আগে অন্তত এক বছর সময় দেয়া হবে। এ সময়ে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নতুন কারিকুলাম সম্পর্কে জানতে ও প্রস্তুতি নিতে পারবে। শিখন উপকরণ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির সুযোগও থাকবে। আর এভাবে পরিবর্তন আনা গেলে একদিকে কারিকুলাম আধুনিকায়ন করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ পরিবর্তনের চাপও তৈরি হবে না।
শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতির কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা কী?
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বর্তমানে নতুন শিক্ষক নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে। আমি আশাবাদী, এ নীতিমালায় শিক্ষকদের বিভিন্ন উদ্বেগ ও দাবি বিবেচনায় নেয়া হবে। সে অনুযায়ী অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা একটি ভালো নীতিমালা প্রণয়ন করে জমা দিলে সরকার সেটি অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করাতে অভিভাবকদের উৎসাহিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং শ্রেণীকক্ষে উপস্থিতি বাড়াতে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?
আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঝরে পড়ার প্রবণতা প্রাথমিকের চেয়ে পরবর্তী শিক্ষাস্তরে বেশি। তবে প্রাথমিক পর্যায়েও উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া রোধে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সামনে বিনামূল্যে ইউনিফর্মসহ আরো কিছু সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহের বিষয়টিও আমরা বিবেচনা করছি।
একই সঙ্গে কোথায় কতটি বিদ্যালয় প্রয়োজন, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি। জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় বড় বিদ্যালয়ের প্রয়োজন কমতে পারে, আবার কোথাও নতুন বিদ্যালয় দরকার হতে পারে। আমি নিজেও এমন কিছু জায়গা দেখেছি, যেখানে নথিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকলেও বাস্তবে সে সংখ্যার প্রতিফলন নেই। সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ কেউ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর সুযোগ নিতে পারে। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে আমাদের তথ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তদারকি বাড়াতে হবে। এজন্য সারা দেশে নতুন করে জরিপ করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছি। এর মাধ্যমে কোথায় শিক্ষার্থীর চাহিদা বাড়ছে আর কোথায় কমছে, তা চিহ্নিত করে বিদ্যালয় ও প্রয়োজনীয় সম্পদ পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব হবে।
দেশে বিভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও কিন্ডারগার্টেন, কওমি মাদরাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একই ধরনের তদারকির আওতায় নেই। এ নিয়ে আপনারা কী ভাবছেন?
সরকারের দায়িত্ব শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনিটর করা নয়; সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মান ও কার্যক্রম তদারকিও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমাদের লক্ষ্য হলো, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা। আমি আশাবাদী, ২০২৮ সালের মধ্যে এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
বিদ্যালয়ের বাইরে প্রাইভেট টিউশনের প্রবণতা বাড়ছে। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন? এটি নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা?
ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রাইভেট টিউশন খুব একটা পছন্দ করি না। কিন্তু এটিও মানতে হবে যে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে; জাপান, কোরিয়ার কথা বাদই দিলাম, ইন্ডিয়ায় তো বড় বড় টেলিভিশন শো আছে প্রাইভেট টিউশন নিয়ে। এ জায়গাগুলোয় প্রাইভেট টিউশন খুব জনপ্রিয়। কোরিয়া এগিয়ে গিয়েছে, জাপানে এগিয়েছে, তার মানে এটার ইতিবাচক দিকও থাকতে পারে। তবে আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো টিউশনের জন্য বিদ্যালয়ের পড়ার মানের অবনমন হয়েছে। এখানে শক্ত নজর দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের অবনমন হবে না। বিদ্যালয়েই যদি শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষা পায়, তাহলে কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীকে এভাবে বাধ্য করতে পারবেন না যে ভালোভাবে পড়তে হলে তার কাছে প্রাইভেট পড়তে হবে। বিদ্যালয়ের পাঠদানের মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ ধরনের নির্ভরতা কমাতে আমরা কাজ করছি।
