কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। চলতি শুষ্ক মৌসুমের শেষ দিকে দরপত্রের মাধ্যমে সেতুর মূল নির্মাণকাজ শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কুমারখালী উপজেলার কয়া ঘোড়াইঘাট এলাকায় প্রস্তাবিত সেতুর নির্মাণস্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেতু নির্মাণের দাবি জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী এলজিইডির সেতুসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের নিয়ে নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই, মাটির পরীক্ষা ও নকশা তৈরির কাজ শুরুর জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সেতুটি নির্মাণে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ জন্য পৃথক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করতে হবে। এরপর পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ বিভাগ ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি শুষ্ক মৌসুমের শেষ দিকে দরপত্রের মাধ্যমে মূল নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খোঁজখবর নেন।
এদিকে দেশে সার বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সার ডিলারদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আগের সরকারের আমলে। তাঁদের অসহযোগিতার কারণে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যেসব জেলায় সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেসব জেলার সংসদ সদস্যরা ১১ দলীয় জোটের। সরকারকে বিভ্রান্ত করতে তাঁদের দলীয় লোকজন এ সংকট তৈরি করে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিএনপির সংসদ সদস্যরা রয়েছেন এমন জেলাগুলোতে সার নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
