The Sangbad · সাধারণ
অধূমপায়ীদেরও হতে পারে ফুসফুসের ক্যানসার
১৩/১০/২০২৬

ধূমপানের অভ্যাস নেই বলে ফুসফুসের ক্যানসারের আশঙ্কাও নেই - এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়াও বায়ুদূষণ, অন্যের ধূমপানের ধোঁয়া এবং রেডন গ্যাসের মতো পরিবেশগত উপাদান এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে কখনো ধূমপান করেননি, এমন ব্যক্তিরও ফুসফুসের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।রোগটি শুধু ধূমপায়ীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সম্ভাব্য কারণ, সতর্কতামূলক লক্ষণ ও ঝুঁকি কমানোর উপায় সম্পর্কে জানা থাকলে প্রয়োজনের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সহজ হয়।ধূমপান ছাড়াও যেসব কারণে বাড়ে ঝুঁকিফুসফুসের ক্যানসারের প্রধান ঝুঁকির কারণ ধূমপান। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক ফুসফুসের কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে ধূমপান ছাড়াও বিভিন্ন কারণে কোষে ক্যানসারজনিত পরিবর্তন ঘটতে পারে।পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রের কয়েকটি উপাদান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ:বায়ুদূষণ: বাতাসের অতি সূক্ষ্ম কণা, বিশেষ করে পিএম ২.৫, শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে। দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে থাকার সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।প্যাসিভ স্মোকিং: অন্যের সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শেও এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।ঘরের ধোঁয়া: কাঠ, কয়লা বা অন্যান্য জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তৈরি ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।কর্মক্ষেত্রে ক্ষতিকর পদার্থ: অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে আসা ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।রেডন গ্যাস: মাটি থেকে প্রাকৃতিকভাবে নির্গত এ গ্যাসের সংস্পর্শও ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের কারও ফুসফুসের ক্যানসার থাকলে অন্য সদস্যের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসারবিষয়ক গবেষণা সংস্থা আইএআরসি বাইরের বায়ুদূষণ ও এর সঙ্গে সম্পর্কিত পার্টিকুলেট ম্যাটারকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ধরন কেমনঅধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের একটি ধরন, অ্যাডেনোকার্সিনোমা, তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এটি নন-স্মল-সেল লাং ক্যানসারের অন্তর্ভুক্ত।এ ধরনের ক্যানসারের কিছু ক্ষেত্রে টিউমারের কোষে নির্দিষ্ট জিনগত পরিবর্তন থাকতে পারে। চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী টিউমারের বায়োমার্কার বা জিনগত পরিবর্তন পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রোগীর জন্য টার্গেটেড থেরাপি উপযুক্ত কি না, তা বিবেচনা করা হয়।তবে সবার জন্য একই পরীক্ষা বা চিকিৎসা প্রযোজ্য নয়। ক্যানসারের ধরন ও পর্যায়, টিউমারের বৈশিষ্ট্য এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ভর করে।যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেনফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।দীর্ঘদিন ধরে কাশি থাকাআগে থেকে থাকা কাশির ধরন বদলে যাওয়াকাশির সঙ্গে রক্ত আসাঅকারণে ওজন কমে যাওয়াশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়াবুকে ব্যথা বা অস্বস্তিঅস্বাভাবিক ক্লান্তিএসব লক্ষণকে অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি বা বায়ুদূষণের প্রভাব বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে, ক্রমে বাড়তে থাকলে কিংবা এর সঙ্গে রক্ত ওঠা বা অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।কাশির সঙ্গে রক্ত এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে বা প্রচুর রক্ত উঠলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে করণীয়ঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি:নিজে ধূমপান করবেন না এবং অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন।ঘরে রান্নার সময় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।সম্ভব হলে কম ধোঁয়া তৈরি করে এমন জ্বালানি ব্যবহার করুন।কর্মক্ষেত্রে অ্যাসবেস্টস বা অন্য বিপজ্জনক পদার্থের সংস্পর্শে এলে যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করুন।বায়ুদূষণ বেশি থাকলে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চলুন।সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণধূমপান না করলেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি পুরোপুরি এড়ানো যায় না। তবে কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা শরীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗