চোখ ধাঁধানো লেজার লাইট, দ্রুত তালের সুর, দীর্ঘ সময় নাচার উপযোগী পরিবেশ। সঙ্গে কুশ-ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের সিনথেটিক মাদক। এমন রেইভ পার্টির মূল টার্গেট, সমাজের উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী।
সেই অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় রেইভ পার্টির আহ্বানে মূল আকর্ষণ ছিল, ধরা না পড়ার নিশ্চয়তা। এমনকি প্রাইভেট গ্রুপে এসএমএস দিয়ে বলা হতো, পুলিশই বরং পুরো পার্টি সারা রাত পাহারা দেবে।
গোয়েন্দারা জানান, রেজিস্ট্রেশন করে এই পার্টিতে অংশ নিতে হতো। সারা রাতের জন্য ৫ রুমের তিনতলা বাসাটির ভাড়া ছিল, সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। তবে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে সবার কাছ থেকে প্রবেশমূল্য নেয়া হয়েছিল, এক হাজার টাকা করে। আয়োজক ছিলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবি ব্যাংকের সিকিউরিটি নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী পরম গুহ নিয়োগী।
আর বাসা ভাড়া তদারকি করেন, সেই অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল-জহিরের ব্যবসায়িক পার্টনার মাহবুবুল আলম। ভাড়ার ৩০ শতাংশ নেন তিনি।
মাহবুবুল আলম জানান, অ্যাপের মাধ্যমে যেসব বুকিং হয়, সেগুলোর সব টাকা জহির স্যারের হাতে যায়। বুকিংগুলো জহির স্যারের অ্যাপের মাধ্যমেই হয়। তবে কিছু বুকিংও হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোয়েন্দারা আরও জানান, ওই রাতে পার্টিতে অংশ নেয়াদের মধ্যে ছিলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ধনীর পরিবারের সন্তানরা। ২৬ নারীসহ ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, অভিযান শুরুর আগেই অনেকে সরে পড়েন। এছাড়া, টয়লেটের কমোডে ফ্ল্যাশ করে মাদক নষ্ট করে ফেলেন, অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে ডিবির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, সেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছিল এবং ধোঁয়া ছিল। আমরা যখন ভেতরে ঢুকি, তখন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পাই। ধোঁয়ার সঙ্গে বাজে গন্ধসহ বিভিন্ন ধরনের গন্ধের মিশ্রণ ছিল। ডিজে পার্টির জন্য সেখানে বড় বড় সাউন্ডবক্সসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছিল। পরে জানতে পারি, সাউন্ডবক্সগুলো ভাড়া করে আনা হয়েছিল। সাউন্ডবক্সের সঙ্গে তিনজন লোক ছিলেন। আমরা সাউন্ডবক্সসহ তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের দাবি করেন, জন্মদিনের কথা বলে ভাড়া নেয়া হয়েছিল।
তবে, পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আর জহির জানান, ভাড়া নেয়ার পর কেউ অন্যায় করলে তার দায়ভার সেই ব্যক্তির। বাড়িওয়ালা কি কখনও খারাপ কাজের জন্য ভাড়া দেন? জন্মদিনের অনুষ্ঠান করার জন্য জায়গাটি ভাড়া নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাড়া নেয়ার পর তারা নিয়ম ভঙ্গ করেছে। কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, সে বিষয়ে নিয়মকানুন স্পষ্টভাবে দেয়া থাকে।
তবে, পার্টিতে অংশ নেয়া কারও জন্মদিনের তথ্য পাননি গোয়েন্দারা। গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ মাদক উদ্ধার না হওয়ায়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
