রাজ্যের স্কুলশিক্ষায় কি ফের পাশ-ফেল প্রথা ফিরতে চলেছে? এবার সেই বিষয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে নতুন বিজেপি সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতির ঘটনা সামনে এসেছিল। বঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা তৃণমূল আমলে ভেঙে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিজেপি আমলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের প্রথম সারিতে নিয়ে আসার বার্তা আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আবহে এবার স্কুলের পাশ-ফেল নিয়ে বড় ইঙ্গিত তাঁর।
পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে একাধিক বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন। পাশ-ফেল নিয়ে বড় বার্তা এদিন দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, “পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সিলেবাস কমিটির সুপারিশ মেনে চলবে রাজ্য সরকার।” তবে স্কুলে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা দরকার। ব্যক্তিগতভাবে সেই কথাই মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিলেবাস কমিটির সুপারিশ আমরা মানব। এনইপি আছে। রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও বিশিষ্ট মানুষ, শিক্ষিত মানুষ। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই শিক্ষা দপ্তরে রয়েছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন।” ছোট থেকেই স্কুলে ‘রাষ্ট্রবাদে’র পাঠের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবাদী করার জন্য প্রত্যেক বছর তিনদিন করে অন্তত বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা তাৎক্ষণিক বক্তৃতা এগুলোও কালচারাল ইভেন্টের মধ্যে আনতে হবে।”
বাম আমলে একসময় স্কুলের পঠনপাঠনে পাশ-ফেল প্রথা ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় এসে সেই পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেয়। ফলে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা নির্ধারণে নম্বরের মানদণ্ড না থাকায় পড়ুয়াদের শিক্ষার মানও নেমে যায়। এমনটাই শিক্ষামহলের একটা অংশের মত ছিল। যদিও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশ-ফেল প্রথা চালু রাখার বিরোধী ছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতিও তৃণমূলের আমলে চালু হয়নি বাংলায়। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর সেই কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি চালু হয়েছে। আগামী বছর থেকে সিলেবাসেও একাধিক বড় পরিবর্তন হচ্ছে। সেই ইঙ্গিতও মিলেছে। এবার আরও এককদম এগিয়ে বাংলায় ফিরছে পাশ-ফেল! মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সেই বিষয় আরও জোরালো হয়েছে। এদিন শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস-এগুলোও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সঞ্চারিত করা উচিত। এছাড়াও ব্রতচারী, এনএসএস, প্রত্যেকটা স্কুলে এনসিসি এগুলো ফিরিয়ে আনা দরকার।”
