খুলনার কয়রা উপজেলায় ৫৭টি মণ্ডপে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে আগেই।
পূজাকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জার কাজ শেষ।
পুরোহিত মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবীকে পূজামণ্ডপে আহ্বান জানাচ্ছেন।পূজার আনুষ্ঠানিকতায় ভক্তদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ধর্মীয় আবহ ও উৎসবের আমেজ।”মণ্ডপগুলোতে আসতে শুরু করেছেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
কয়রা উপজেলা পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগী বলেন, ‘দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। ষষ্ঠীতিথিতে প্রতিটি মণ্ডপে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো।’
তিনি আরও বলেন, পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, অসুরশক্তির বিনাশ ও দেবতাদের মুক্তির জন্য মহাশক্তি দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে। দুর্গাপূজা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ-আল বাকী বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ বছর কয়রায় ৫৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের জন্য সরকারি বরাদ্দ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপে সাত হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
পাঁচ দিন চলবে দুর্গোৎসব
পূজার সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। শনিবার ও রোববার (১৭,১৮ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহাষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী পালিত হবে। বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। এদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।
দেবীর আগমন ও গমন নিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস
প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন এবং নৌকায় চড়ে দেবীর স্বর্গলোকে গমনের কথা বলা হচ্ছে।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
