সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৩৮ অপরাহ্ন
বিদেশে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হলে সংশ্লিষ্ট দেশ বাংলাদেশের সরকারকে বিষয়টি অবহিত করবে বলে প্রত্যাশা করে ঢাকা। এর মাধ্যমে ওই নাগরিককে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদানে ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসায় দেশটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (২০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিক ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে সৌদি কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে, যাতে তারা ওই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অন্তত তাদের জানা উচিত যে তাদের একজন নাগরিক বাংলাদেশের মাটিতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন।’
একইভাবে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশও বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ফৌজদারি কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশকে অবহিত করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। এতে সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঘাটতি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইছি।’ তথ্য আদান-প্রদানে কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা নির্ধারণে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইন রয়েছে এবং দেশটিতে ভ্রমণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি সে আইনের আওতাভুক্ত। বাংলাদেশের উদ্বেগের মূল বিষয় হচ্ছে তথ্য আদান-প্রদান, যোগাযোগ এবং এ-সংক্রান্ত বিদ্যমান প্রক্রিয়া।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অপরাধের বিষয়টিকে গভীর হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে মানুষ যে পবিত্র স্থান পরিদর্শন করেন, সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের অধীনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদী।
বিদেশ সফর সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করে হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি আজারবাইজানের বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা জোরদারবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। পরে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে ইরাকের বাগদাদে যান।
সফরকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বৈঠকের ফাঁকে আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা গেছে।
ওআইসির বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যৌথভাবে রোহিঙ্গাদের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণবিষয়ক একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি সহসভাপতিত্ব করেন। ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ওআইসির সদস্য দেশগুলো কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার আলোকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরকালে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো আলোচনা হয়নি।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
