আজকাল ওয়েবডেস্ক: রেলযাত্রাকে আরও আরামদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতে, পূর্ব রেল হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের ফার্স্ট এসি কোচে ফ্লোরাল কমফোর্টার চালু করেছে। যাত্রীদের দেওয়া সাধারণ কম্বলের পরিবর্তে এই নতুন কমফোর্টারগুলো ব্যবহার করা হবে, যা দুর্গাপুজোর উৎসবের মরসুমে যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় এক বিশেষ মাত্রা যোগ করবে।
দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাপথে যাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং ট্রেনের ভেতরের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রেলের নেওয়া উদ্যোগেরই একটি অংশ হল এই পদক্ষেপ।
এক বিবৃতিতে পূর্ব রেল জানিয়েছে, “এই দুর্গাপুজোয় আপনার যাত্রায় আভিজাত্যের এক বিশেষ ছোঁয়া নিয়ে আসছে পূর্ব রেল! ১১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের ফার্স্ট এসি শ্রেণিতে ভ্রমণকারী যাত্রীরা সাধারণ কম্বলের বদলে বিশেষ প্রিমিয়াম ফ্লোরাল কমফোর্টার ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।”
প্রতিটি রাউন্ড ট্রিপের পর ফ্লোরাল কমফোর্টারগুলো ধোয়া ও স্যানিটাইজ করা হবে
পূর্ব রেল জানিয়েছে যে, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখতে এবং যাত্রীদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি রাউন্ড ট্রিপ বা যাত্রাপথ সম্পন্ন হওয়ার পর এই ফ্লোরাল কমফোর্টারগুলো ভালভাবে ধোয়া ও স্যানিটাইজ করা হবে।
ট্রেনে কভার-সহ কম্বল
গত বছর, রেলমন্ত্রক এসি কোচে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্য কভার-সহ কম্বল প্রদানের একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এটি যাত্রীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি ছিল, কারণ ট্রেনে দেওয়া কম্বলগুলো চাদর বা বালিশের খাপের মতো প্রতিটি যাত্রার পর ধোয়া হয় না। এগুলো মাসে মাত্র একবার বা দু'বার পরিষ্কার করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত এই বিষয়টি বিবেচনা করে এবং আরামদায়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে রেল প্রতিটি কম্বলের জন্য কভারের ব্যবস্থা করেছে।
হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস সম্পর্কে
হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস, যা কলকাতা রাজধানী এক্সপ্রেস নামেও পরিচিত, কলকাতার সঙ্গে দেশের রাজধানী নয়াদিল্লির সংযোগ স্থাপন করে। এটি ছিল ভারতের প্রথম রাজধানী এক্সপ্রেস এবং ১৯৬৯ সালের ৩রা মার্চ এর প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল।
চালু হওয়ার সময় এই ট্রেনটিতে পেরাম্বুরের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (আইসিফি)-তে তৈরি ভ্যাকুয়াম-ব্রেকযুক্ত নয়'টি কোচ ছিল। ট্রেনটির মূল কাঠামোয় দু'টি পাওয়ার কার, পাঁচটি এসি চেয়ার কার, একটি এসি ডাইনিং কার এবং একটি ফার্স্ট এসি কোচ ছিল।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা রাজধানী এক্সপ্রেসে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি 'লিঙ্কে-হফম্যান-বুশ' (এলএইচবি) কোচ দিয়ে পরিচালিত হয়। যাত্রীদের আরও আরামদায়ক ভ্রমণ এবং উন্নত পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যেই এই কোচগুলো নকশা করা হয়েছে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ট্রেনের কোচ বিন্যাসে মোট ২২টি এলএইচবি কোচ রয়েছে- যার মধ্যে দু'টি ফার্স্ট এসি কোচ, ছয়'টি এসি ২-টায়ার কোচ, ১১টি এসি ৩-টায়ার কোচ, একটি প্যান্ট্রি কার এবং দুটি পাওয়ার কার-কাম-লাগেজ ভ্যান অন্তর্ভুক্ত।
হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস গয়া হয়ে ১২৩০১ (হাওড়া থেকে নয়াদিল্লি) এবং ১২৩০২ (নয়াদিল্লি থেকে হাওড়া) নম্বর ট্রেন হিসেবে চলাচল করে। আবার পাটনা হয়ে চলার সময় এটি ১২৩০৫ (হাওড়া থেকে নয়াদিল্লি) এবং ১২৩০৬ (নয়াদিল্লি থেকে হাওড়া) নম্বর ট্রেন হিসেবে পরিচালিত হয়।
