বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সরকারি মালিকানাধীন নিউ সমনবাগ চা বাগানের শ্রমিকদের দুর্গাপূজার বোনাস কর্তনের অভিযোগ উঠেছে বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। বোনাসে বৈষম্য ও অনিয়মের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বাগান কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন দেড় শতাধিক শ্রমিক। এ সময় কর্তন করা বোনাসের অর্থ দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তাঁরা।
জানা গেছে, একই সেলে পরিচালিত সরকারি মালিকানাধীন নিউ সমনবাগ, মোকারম ও পাঠারিয়া চা বাগানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। শ্রমিকদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী একজন নিয়মিত চা শ্রমিকের দুর্গাপূজার বোনাস পাওয়ার কথা ৬ হাজার ৪৯৪ টাকা। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ কর্মদিবস কম দেখিয়ে কাউকে ১ হাজার, কাউকে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাউকে পূর্ণ বোনাস দিয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বোনাস কর্তনের প্রতিবাদে দেড় শতাধিক শ্রমিক বাগান কার্যালয় ঘেরাও করেন। এ সময় বাগান ব্যবস্থাপক ও স্টাফদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি নারায়ণ কালোয়ার, সাধারণ সম্পাদক রাঙা চরণ সাঁওতাল, শ্রমিক নেতা সচিন রায়, হরেন কুর্মি, বিশু নেপালি ও রাসবিহারী রবিদাসসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পূজার বোনাস ৬ হাজার ৪৯৪ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও কোনো শ্রমিককে ১ হাজার, কাউকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ পূর্ণ বোনাস পেয়েছেন। সারা বছর কাজ করার পরও এমন বৈষম্যের শিকার হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। এত কম টাকা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন করবেন, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
শ্রমিক নেতারা জানান, গত বছর বোর্ডের অডিট টিম বাগানে থাকায় কোনো শ্রমিকের বোনাস কর্তন করা হয়নি। তাঁদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী ৪০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও এবার কর্মদিবস কম দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে বোনাস কেটে নিয়েছে। তাঁরা প্রত্যেক নিয়মিত শ্রমিকের বকেয়া বোনাসসহ প্রাপ্য ৬ হাজার ১৬৫ টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান। অন্যথায় কর্মবিরতিসহ আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে নিউ সমনবাগ চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার ফারুক শিয়াব ইসলাম বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, কিছু অভিযোগ থাকতেই পারে। শ্রমিকদের বছরের কর্মদিবস হিসাব করেই বোনাস দেওয়া হয়েছে। বোনাস কম পাওয়ায় কিছু শ্রমিক বৃহস্পতিবার সকালে অফিসের স্টাফদের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন। পরে তিনি গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে বলেন।
গত বছর সব নিয়মিত শ্রমিককে কোনো কর্তন ছাড়াই ৪০ শতাংশ বোনাস দেওয়া হয়েছিলÑএবার কেন দেড় শতাধিক শ্রমিকের বোনাস কর্তন করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এগ্রিমেন্ট পেপার অনুযায়ী যার যা পাওনা, তা-ই দেওয়া হয়েছে।
