তেল আবিব, ২৫ অক্টোবর – ইসরায়েলের পরবর্তী জাতীয় সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছে হাজার হাজার ক্ষুব্ধ নাগরিক। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, সরকারের দায়বদ্ধতাহীনতা এবং জিম্মি উদ্ধারে ব্যর্থতার প্রতিবাদে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। শনিবার রাতে আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি একাত্মতা প্রকাশ করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতারাও।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এবং টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) তেল আবিবের ‘হোস্টেজেস স্কয়ারে’ (Hostages Square) অনুষ্ঠিত হয় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এই সরকারবিরোধী গণসমাবেশ। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভায় নেতানিয়াহুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারা উপস্থিত থাকায় সমাবেশটি সরকারবিরোধী আন্দোলনের এক নতুন রূপ নিয়েছে।
‘অক্টোবর কাউন্সিল’-এর ডাক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
গাজায় হামাসের হাতে বন্দি হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর গঠিত সংগঠন ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ এই সমাবেশের আহ্বান জানায়। মূলত ৩ বছর আগে হামাসের হামলা প্রতিরোধে সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং গাজায় যুদ্ধের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর জন্য নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ‘রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন’ (State Commission of Inquiry) গঠনের দাবি তোলা হয় সমাবেশ থেকে।
দাবি ও বার্তা: সমাবেশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (X) অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, নির্বাচনের তিন দিন আগে সত্য উদঘাটন, পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন।
জনসমাগম: আয়োজকদের দাবি মতে, সমাবেশে ১ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। তবে স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।
ময়দানে বিরোধী নেতারা: কার দখলে যাবে প্রধানমন্ত্রীর আসন?
আগামী মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এই বিশাল সমাবেশে সশরীরে যোগ দেন বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতারা:
গাদি আইজেনকোট: আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-ডানপন্থি ‘ইয়াশার’ (Yashar) পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোট সমাবেশস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত হাজারো মানুষ তাকে “আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী!” বলে জোরালো স্লোগানে বরণ করে নেয়।
ইয়াইর গোলান: ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলানসহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এতে সংহতি প্রকাশ করেন।
সর্বশেষ পাওয়া জনমত জরিপগুলোর তথ্যমতে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোটের সঙ্গে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান নীতি ও রাষ্ট্রীয় কমিশনের রাজনৈতিক সমীকরণ
ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক অবস্থানের রূপরেখা। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট যদি ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে যান, তবে ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে সামরিক সংঘাত বাড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি হয়তো কিছুটা সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতাসহ আঞ্চলিক প্রধান পররাষ্ট্রনীতিগুলোর ক্ষেত্রে বিরোধী জোট ও ক্ষমতাসীন জোটের নীতিগত অবস্থান প্রায় একই রকম।
অন্যদিকে, ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি মেনে নেয়নি। তার বদলে নেতানিয়াহু প্রশাসন একটি ‘রাজনৈতিক কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব রাখে, যেখানে অর্ধেক সদস্য মনোনীত করবে সরকার এবং বাকি সদস্য দেবে বিরোধী দল। কিন্তু বিরোধী নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—সরকারের তৈরি এমন কোনো প্রহসনমূলক কমিশনকে তারা কোনোভাবেই সমর্থন করবেন না এবং তা বয়কট করবেন।
নির্বাচনের মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে তেল আবিবে এই নজিরবিহীন সমাবেশ ও বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টানা দীর্ঘ ক্ষমতার ভিতকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::নির্বাচনের মুখে ইসরায়েলে রাজনৈতিক উত্তাপ: তেল আবিবে বিশাল বিক্ষোভে রাস্তায় প্রধান বিরোধী নেতারা first appeared on DesheBideshe.