আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যসচিব জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কোনও অবমাননাকর মন্তব্য করা যাবে না। মুছে ফেলতে হবে তাঁর বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় করা পোস্টও। অবমাননা মালায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র-কে এই নির্দেশ দিল আলিপুর কোর্ট। অন্তবর্তীকালীন রায়ের আরও বলা হয়েছে যে, মহুয়ার কোনও প্রতিনিধি বা তাঁর হয়ে কাজ করা অন্য কেউঃও মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে কোনও মানহানিকর মন্তব্য করতে বা শেয়ার করতে পারবেন না।
২৪ ঘন্টার মধ্যে অবমাননাকর ওই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মোছা না হলে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল ‘আইটি ইন্টারমিডিয়ারি গাইডলাইনস রুলস, ২০২১’-এর ৩(১)(ডি) বিধি এবং ‘ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট, ২০০০’-এর ৭৯(৩)(বি) ধারার আওতায় ‘এক্স’ কর্তৃপক্ষের কাছে এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পাঠিয়ে পোস্টগুলো বাতিলের অনুরোধ জানাতে পারেন।
এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী বছরের ৫ জানুয়ারি।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। এসবের মধ্যেই গত ৩ অক্টোবর মনোজ আগরওয়ালকে ‘ভোট চোর’ বলে সোশাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। এছাড়া ৬ অক্টোবরও মনোজকে নিশানা করেন তৃণমূল সাংসদ। সোশাল মিডিয়ায় এবার মুখ্যসচিব-কে ‘সব ধরনের বেআইনি কাজ করেছেন’ বলে কটাক্ষ করা হয়।
মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য মনোজ আগারওয়াল ‘এককভাবে দায়ী’ করেন, অথবা তিনি কোনও ‘মালিক’-এর নির্দেশে কাজ করেছেন- এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
এরপরই মহুয়ার বিরুদ্ধে মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল অবমাননার মামলা দায়ের করেন। ৯ অক্টোবর তিনি একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এরপরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। উপলব্ধ প্রতিবেদনে আদালতে মহুয়া মৈত্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হয়নি এবং এই পর্যায়ে বিষয়টির গুণাগুণ বা মূল তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য শোনার সুযোগ আসেনি।
তবে মহুয়ার এসআইআর প্রক্রিয়া এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার সুযোগ খোলা রয়েছে। এই মন্তব্যগুলো মানহানিকর কি না, নাকি তা সমালোচনার অধিকারের আওতাভুক্ত- তা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালতই নির্ধারণ করবে। মামলার গুণাগুণ বা মূল বিষয়ের ওপর আদালত এখনও কোনও মতামত দেয়নি।
