নোয়াখালী সদর উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে কবির হোসেন (৪০) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর কমান্ডার মিঠুন কুমার কুন্ডু এবং সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. আলাউদ্দিন মুন্সী, মো. ফারুক উদ্দিন রনি, মো. হোসেন, মো. তারেক।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত কবির হোসেন সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের শাহাদাতপুর গ্রামের মৃত হানিফের ছেলে। সম্প্রতি চুরির অভিযোগ তুলে তাকে নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তরা তাকে কাঠের টুকরো ও গাছের লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে।
খবর পেয়ে ভিকটিমের মা কমলা বেগম ছেলেকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাকেও ধাক্কা দিয়ে জখম করে। একপর্যায়ে কবিরকে রশি দিয়ে স্থানীয় বাজারের একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুনারায় নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
বিকাল ৫টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কবিরকে একটি অটোরিকশায় তুলে মাইজদীর দিকে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরবর্তীকালে সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্বজনরা জানতে পারেন কবির মারা গেছেন। তার লাশ নিয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের একটি ইটের রাস্তার পাশে কড়ই গাছের নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা।
জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর (৯৯৯)-এ প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের পিঠ, পেট, উরু ও পায়ে একাধিক মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি অটোরিকশা ও নির্যাতন কাজে ব্যবহৃত ১০ হাত লম্বা রশি জব্দ করেছে।
