৪২৯ রানে আলআউট বাংলা টিম।ছবি: এক্স (@kbofficial25)
Published on
:
2 min read
দ্বিতীয় দিনের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের পর তৃতীয় দিনে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারল না বাংলা (Bengal)। অভিষেক পোড়েল (Abishek Porel) ও সুদীপ ঘরামির (Sudip Gharami) শতরানে সোমবার ৩ উইকেটে ৩০৪ রান তুলে দিন শেষ করেছিল দল। দু’জনেই ছিলেন অপরাজিত। মঙ্গলবার সকালে আরও রান যোগ করেন তাঁরা। কিন্তু দুই শতরানকারী সাজঘরে ফেরার পর বাংলার ইনিংসে আর সেই দাপট দেখা যায়নি।
সুমন্ত গুপ্তের অর্ধশতরান ছাড়া বাকি ব্যাটাররা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারানোয় প্রত্যাশা মতো বড় রানও তুলতে পারল না বাংলা। অন্য দিকে, অধিনায়ক আয়ুষ বাদোনির (Ayush Badoni) নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলার ব্যাটিংয়ে লাগাম টানে দিল্লি (Delhi)।
সুদীপের ১৩৩, অভিষেক থামলেন ১৪৯ রানে
সোমবার দিনের শেষে অভিষেক ১৬১ বলে ১১৪ এবং সুদীপ ২২১ বলে ১২২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ১৯৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে দিল্লিকে ২৪০ রানে অল আউট করার পর ব্যাট হাতেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল বাংলা। মঙ্গলবার লক্ষ্য ছিল, সেই ভিতকে কাজে লাগিয়ে আরও বড় রান তোলা এবং প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়ানো।
দিনের শুরুতে দু’জনেই সাবলীল ব্যাটিং করেন। সুদীপ নিজের রান ১২২ থেকে বাড়িয়ে ১৩৩-এ নিয়ে যান। ২২১ বলের ইনিংসে তাঁর সংগ্রহে ছিল ১৬টি চার ও একটি ছয়। কিন্তু দিবিজ মেহরার বলে সুদীপের আউট হওয়ার পর বাংলার ব্যাটিংয়ে প্রথম বড় ধাক্কা লাগে। অন্য দিকে, অভিষেকও নিজের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। সোমবারের ১১৪ রানের সঙ্গে মঙ্গলবার আরও ৩৫ রান যোগ করে ১৪৯-এ পৌঁছন তিনি। তবে দেড়শোর দোরগোড়ায় পৌঁছেও সেই মাইলফলক স্পর্শ করা হয়নি তাঁর।
হৃতিক শোকিনের বলে আউট হন অভিষেক। দুই ব্যাটারই ব্যক্তিগত রান বাড়ালেও তাঁদের জুটি ভাঙার পর আর নতুন করে বড় পার্টনারশিপ গড়ে ওঠেনি। অভিষেক ও সুদীপের ব্যাটিংয়ে যে ভিত তৈরি হয়েছিল, তা কাজে লাগিয়ে বাংলার ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাঁদের বিদায়ের পর দিল্লির বোলাররা ক্রমশ ম্যাচে ফিরে আসেন।
সুমন্তের অর্ধশতরান, শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে ধস
অভিষেক পোড়েল ও সুদীপ ঘরামির দুরন্ত শতরানের পর বাংলার ইনিংসকে আরও বড় করার সুযোগ ছিল। কিন্তু দুই ব্যাটার ফিরে যাওয়ার পর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না বাংলা। সুমন্ত গুপ্ত অর্ধশতরান করে লড়াই চালালেও শেষ দিকে অন্য ব্যাটারদের কাছ থেকে রান এল না। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে প্রত্যাশিত রানের গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হল দল।
সোমবার দিনের শেষে ৩ উইকেটে ৩০৪ রান ছিল বাংলার। মঙ্গলবার ইনিংস শেষ হয় ৪২৯ রানে। অর্থাৎ, শেষ সাত উইকেট হারিয়ে আরও ১২৫ রান যোগ করে বাংলা। অভিষেকের ১৪৯ ও সুদীপের ১৩৩ রানের ইনিংসের পরও শেষ দিকে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় স্কোরের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো গেল না।
বাদোনির পাঁচ উইকেটে বাংলার ইনিংসে ধস
দ্বিতীয় দিনের শেষে ৩০৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শক্তিশালী জায়গায় ছিল বাংলা (Bengal)। সুদীপ ঘরামি (Sudip Gharami) ও অভিষেক পোড়েলের (Abishek Porel) শতরানে বড় রানের ভিত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার ছবিটা বদলে দিলেন দিল্লির অধিনায়ক আয়ুষ বাদোনি (Ayush Badoni)। ১৮ ওভার বল করে ৩টি মেডেন-সহ ৪৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি।
সুদীপের ১৩৩ ও অভিষেকের ১৪৯ রানের ইনিংসের পরেও বাংলার ব্যাটিংয়ের শেষ দিকে প্রত্যাশিত রান আসেনি। সুমন্ত গুপ্তের অর্ধশতরানও দলকে বড় রানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৪২৯ রানে শেষ হয় বাংলার প্রথম ইনিংস। নভদীপ সাইনি এবং দিবিজ মেহরা ২টি উইকেট নেন। শোকিন নেন ১ উইকেট।