রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। এ ঘটনায় রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
একই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিডিও বার্তায় তিনি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।
মানবকল্যাণ পরিষদ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসির মাহফিলটি হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে মুফতি আমির হামজার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এ উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই এলাকায় পোস্টার সাঁটানো ও মাইকিং চলছিল। শুরু হয়েছিল প্যান্ডেল নির্মাণের কাজও। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আয়োজনটি বাতিল করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে মুফতি আমির হামজা লেখেন, ‘রাজশাহীতে আমার একটি তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন, কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো? নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হোক। কিন্তু অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে, সেই সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘অতীতে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ও ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল ঘিরে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগ উঠেছিল। আমরা আশা করেছিলাম, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আজকের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা ও পদ্ধতিতে কি সত্যিই পরিবর্তন এসেছে?’
একই ঘটনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, তাফসির মাহফিল বন্ধের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতো আচরণ করছে। কোরআনের মাহফিল বন্ধের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সরকারকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মানবকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক বলেন, তাফসির মাহফিলের অনুমতি চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর ইউএনও ইসরাত জাহানের কাছে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। ১৭ অক্টোবর তাঁকে আবার দাওয়াত দিতে গেলে ইউএনও জানান, তিনি কোনো আবেদন দেখেননি। এ ছাড়া হঠাৎ করে অনুমতি দেওয়াও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এরপর তাঁরা মাহফিলের আয়োজন বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, ‘জেলা থেকে অনুমতি নিতে হয়। তারা জেলায় যাননি। পরে আমিই বিষয়টি জেলায় জানিয়েছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনুমতি দেওয়া হচ্ছে কি না, তা জানি না।’
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে অনুমতি চেয়ে আয়োজক কমিটি কোনো আবেদনই করেননি। আবেদন না করলে অনুমতির কথাটি আসে না।’
জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল কি না, তা আয়োজক কমিটির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ বিষয়ে ইসমাইল হক বলেন, ‘ইউএনও যখন জানালেন অনুমতি দিতে পারবেন না, জেলায় যেতে হবে—তখন আর খুব বেশি সময় নেই। তাই আর জেলায় অনুমতি চাওয়া হয়নি।’
