বছরের পর বছর ধরে দূষণ অভিশাপে ভুগছে দিল্লি। এবারও শীতের আভাসেই বাতাসের গুণমান ‘খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই অবস্থায় রাজধানীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে দিল্লি পৌরনিগমের অধিবেশন কক্ষে আলোচনা ছিল বৃহস্পতিবার। বিতর্কের বদলে তুমুল ঝগড়া, হাতাহাতিতে জড়ালেন শাসক বিজেপি ও বিরোধী আপের কাউন্সিলররা। একে অপরের দিকে জল, ফাইল ছুড়লেন তাঁরা। ধুন্ধুমারে ভাঙল মাইক। শেষ পর্যন্ত সভা মুলতুবি হয়ে যায়।
আপ কাউন্সিলররা অবিলম্বে উন্নয়ন তহবিলের অর্থের দাবি জানাতেই ঝামেলার সূত্রপাত হয়। এই দাবির প্রেক্ষিতে মেয়র প্রভাস ওয়াহি উন্নয়ন তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। এইসঙ্গে জানান যে, চলতি অর্থবছরে কাউন্সিলরদের জন্য মোট ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এই ঘোষণাও বিরোধীদের শান্ত করতে পারেনি। আপ কাউন্সিলররা দাবি জানান, তাৎক্ষণিক বরাদ্দের পরিমাণ ২৫ লক্ষ নয়, বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করতে হবে।
স্লোগান দিতে দিতে আপ কাউন্সিলররা মেয়রের চেয়ারের দিকে এগিয়ে যান। উত্তেজনা বাড়ায় পাঁচ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে দিল্লির ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিরোধী কাউন্সিলররা এই সংকট মোকাবিলায় পৌর সংস্থা ও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরেই বিজেপি ও আপ কাউন্সিলরদের সংঘাত দেখা দেয়। উত্তেজনার এক পর্যায়ে তাঁরা একে অপরকে মারধরের হুমকি পর্যন্ত দেন।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আপ কাউন্সিলর শাগুফতা জুবায়ের উত্তেজিত হয়ে মেয়রের চেয়ারের কাছে পৌঁছান। সেখানে থাকা মাইক্রোফোনটি ভাঙার চেষ্টা করেন। বিরোধী দলনেতা অঙ্কুশ নারাংও একটি মাইক্রোফোন নষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর জল ও নথিপত্র ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। এরপর মার্শালরা হস্তক্ষেপ করেন। মেয়র প্রবেশ ওয়াহিকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যান তাঁরা। তুমুল বচসা হয় কংগ্রেস নেত্রী নাজিয়া দানিশ ও আপ নেতা অঙ্কুশ নারাংয়ের মধ্যে। অঙ্কুশ অভিযোগ করেন, নাজিয়া বিজেপি ঘনিষ্ট। শেষ পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। এই ঘটনায় বিভিন্ন দলের বেশ কয়েক জন সাংসদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, জানিয়েছেন মেয়র প্রভাস ওয়াহি।
