বিআরটি প্রকল্প বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিলুপ্ত করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। একই সঙ্গে বিআরটির সম্পূর্ণ অবকাঠামোকে ৩+৩ লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানতে পেরেছে, সরকার বিআরটি প্রকল্প বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, বিআরটির সম্পূর্ণ অবকাঠামোকে ৩+৩ লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
আরো বলা হয়, গত ১৯ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার বিআরটি নিয়ে সর্বশেষ ও সবচেয়ে খারাপ বিকল্পটিই বেছে নিয়েছে। বৈঠক-পরবর্তী নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়েও সিদ্ধান্তটি জানানো হয়নি। এতে এমন জল্পনার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে যে, সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের একটি অংশ কিছু একটা গোপন করার চেষ্টা করছেন। বিআইপি এই সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সুস্পষ্টভাবে স্বার্থের সংঘাত দেখতে পাচ্ছে।
বিআইপি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে একে টেকসই, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণপরিবহনের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সংগঠনটির মতে, সিদ্ধান্তটি গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান (জিটিএমপি) এবং ঢাকার জন্য প্রণীত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) প্রস্তাবনার পরিপন্থী। একই সঙ্গে গত ১৪ বছর ধরে প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে দুর্ভোগ পোহানো গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা এবং চলাচলের চাহিদার প্রতিও এই সিদ্ধান্ত সুবিচার করে না।
এমতাবস্থায়, বিআইপি বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বিআরটি ও এমআরটির পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত সংস্থা গঠন এবং সমগ্র ঢাকা শহর ও দেশের অন্যান্য মহানগরের জন্য বিআরটির বৃহত্তর পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়া পরিবহন অবকাঠামো বিষয়ে প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণের চর্চা বন্ধ করে পরিকল্পনাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বাস্তবায়নকালে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করে এবং নারী, স্বল্প দূরত্বের যাত্রী, শারীরিক প্রতিবন্ধিতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও সীমিত সামর্থ্যের মানুষসহ অধিক সংখ্যক মানুষকে সেবা দেয়—এমন পরিবহন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চলের যেকোনো পরিবহন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) নেতৃত্বদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত করার দাবি জানিয়েছে বিআইপি।
