ছবি: সংগৃহীত
চাঁদপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরার অভিযোগে ২২ জেলেকে ১২ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ২৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল, ছয়টি মাছ ধরার নৌকা ও পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। আটক অন্য দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার বিকেল চারটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নির্বিঘ্ন রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সদর উপজেলার আনন্দবাজার, লালপুর, কাচিকাটা, চিরাচর, হরিসভা, রনাগোয়াল, দোকানঘর ও বহরিয়া এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় চিরাচর এলাকা থেকে ১৮ জন এবং দোকানঘর এলাকা থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক জেলেকে ১২ দিনের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আটক অপর দুই জেলে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। নদীতে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ এবং মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযানে জব্দ করা নিষিদ্ধ কারেন্টজাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধার করা পাঁচ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, জব্দ ছয়টি মাছ ধরার নৌকা কোস্টগার্ডের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার পাশাপাশি নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মাতৃভূমির খবর

