অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নড়াইল ও রংপুরের কারা বিভাগের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির অনুমোদন দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারার আওতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন নড়াইল জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার সাইফুল ইসলাম। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। তার আয়, সম্পদ এবং সম্পদ অর্জনের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ১৪ লাখ ১৯ হাজার ২২১ টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তার সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করতে হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই কারাগারের ফ্যাক্টরি ওভারশিয়ার মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও বড় অঙ্কের জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে ৪১ লাখ ৫১ হাজার ৩৬৯ টাকার সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। তার ক্ষেত্রেও সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস যাচাইয়ের জন্য সম্পদের বিবরণী চাওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে অসংগতি বা জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে সম্পদ থাকার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেলে সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পদ, আয় ও দায়-দেনার তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ তৈরি হয়।
তিন কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্পদের বিবরণী পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নথি, আয়করসংক্রান্ত তথ্য, সম্পদ অর্জনের উৎস এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয় যাচাই করা হতে পারে। অনুসন্ধানে অভিযোগের আরও তথ্য বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা বলা হলেও সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ নিজেই চূড়ান্ত অপরাধ প্রমাণ নয়। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, সম্পদের বৈধ উৎস এবং পরবর্তী অনুসন্ধানের ফলাফলের ওপর আইনগত প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে।
কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আয় ও সম্পদের হিসাব যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনজনের সম্পদের বিবরণী যাচাইয়ের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
