Published on
:
2 min read
বুধবার দুপুর থেকে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। অভিযোগ, গত ২ মাসের বেতন এবং পুজোর বোনাস বকেয়া রয়েছে। এই কর্মবিরতির ফলে পুজোর সময়ে কলকাতা এবং হাওড়া মধ্যে ফেরি চলাচল ব্যাহত হতে পারে।
বুধবার বিকালে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া ফেরিঘাটে বিক্ষোভ দেখান হুগলি নদী জলপথ পরিবহন সমবায় সমিতির কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত ২ মাসের বেতন এবং বোনাস বকেয়া রয়েছে। পুজোর মুখে তাঁরা চরম আর্থিক কষ্টের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এমনই যে পুজোর সময়ে বাড়ির শিশুদের জন্যও পোশাক কিনতে পারেননি। তাঁদের দাবি, যদি কর্তৃপক্ষ তাঁদের পাওনা না মেটান, তাহলে বুধবার দুপুর দু’টোর পর থেকে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করবেন।
প্রায় ২৫০ জন কাজ করেন এখানে। হাওড়া থেকে গোলাবাড়ি, শোভাবাজার, বাগবাজার, চাঁদপাল, আর্মেনিয়া, প্রিন্সেপ ঘাট রুটে নিয়মিত ফেরি চলে, সেখানেই এই কর্মীরা কাজ করেন। এছাড়াও বাউরিয়া এবং নুরপুর রুটেও একইভাবে ফেরি চালান এঁরা। কর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁরা পুজোর দিনগুলিতেও কর্ম বিরতি পালন করবেন। সেটা হলে মারাত্মক সমস্যায় পড়বেন ফেরির যাত্রীরা। হাওড়া স্টেশন দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী কলকাতায় যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়তে পারেন। কর্মীদের দাবি, পুজোর সময় সমিতির ১৪টি ফেরি ঘাটে টিকিট বিক্রি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়। সেই টাকায় অনায়াসে কর্মীদের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
এ দিকে ওই সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, রাজ্য পরিবহণ দপ্তর এবং জেলা পরিষদ এই সমিতি থেকে ভাড়া বাবদ মোটা টাকা পায়। আগে সেই টাকা শোধ করা দরকার। এর মধ্যে কর্মীদের বেতন দিতে হবে। সেটাই আপাতত তাঁদের লক্ষ্য। বোনাস দেওয়া হবে কিনা তা সমবায় দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওই সমবায় সমিতিকে ভাড়া দেওয়া ৬টি লঞ্চ অবিলম্বে ফেরত চেয়ে পাঠিয়েছে রাজ্য ভূতল পরিবহণ নিগম। সমিতি সূত্রের খবর, ১২টি লঞ্চের মধ্যে ৬টি তুলে নিলে সমস্যা হবে পরিষেবায়। এখন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ নেই। ফলে হাওড়া জেলা সমবায় দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অব কোঅপারেটিভ সোসাইটি প্রশাসক হিসাবে কাজ চালাচ্ছেন। অক্টোবরের প্রথম দিন ভূতল পরিবহণ নিগম চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে ৬টি লঞ্চ ফেরত দিতে হবে। ওই ৬টি লঞ্চের ভাড়া বাবদ ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। সেই কারণেই লঞ্চগুলি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।