আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৪ অক্টোবর। সন্ধে গড়িয়ে রাত নামছে। তখনই পুলিশের কাছে যায় ফোন। মহিলা কণ্ঠের অকোপট স্বীকারোক্তি, খুন করে ফেলেছেন নিজের মেয়েকেই। ফ্রান্সিস ক্যাবেলোর ফোন পেয়ে কুইন্সের রিচমন্ড হিল এলাকায় তাঁদের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। পৌঁছে শিশু ফাবিয়ানা ক্যাবেলোকে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পায়। বয়স বছর পাঁচ। ওই শিশুকে জ্যামাইকা হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এখন তার বাবা কুলদীপ সিং মেয়ের শেষকৃত্যের জন্য ১৮ হাজার ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
কিন্তু ক্যাবলোর বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয় কারও কাছে। ইতিমধ্যেই ক্যাবলোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে স্থানীয়সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তে মেয়েটির মুখে আঁচড়ের দাগ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া তার চোখ, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে 'পেটেকিয়া' (রক্তক্ষরণের ফলে সৃষ্ট ক্ষুদ্র বিন্দু) পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব লক্ষণ শ্বাসরোধজনিত ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অন্যদিকে, ফাবিয়ানার বাবা কুলদীপ সিং শেষকৃত্যের খরচ মেটাতে সাহায্য করার জন্য একটি 'গোফান্ডমি' ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। মেয়কে হারিয়ে, কাতর বাবা লিখেছেন, 'আমি আমার মেয়েকে খুব ভালোবাসতাম; তাকে হারিয়ে মনে হচ্ছে যেন আমি আমার পুরো পৃথিবীটাই হারিয়ে ফেলেছি।' তিনি কেন গোফান্ডমি-তে সাহায্য চাইছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। লিখেছেন, 'এই মুহূর্তে আমার এমন কিছু খরচ হচ্ছে, তা আমার পক্ষে একা বহন করা সম্ভব নয়। ফিউনারেল হোম এবং সমাধিস্থলের জন্য অগ্রিম অর্থের প্রয়োজন, যা আমার কাছে নেই। আমি ভাড়ায় গাড়ি নিয়ে উবার চালক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।' সমগ্রদিক একসঙ্গে পালন করতে তিনি হিমশিম খাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। মেয়ের একটি র্যাদাপূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করাই এই মুহূর্তে সন্তান-হারা পিতার একমাত্র কাজ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সিস ক্যাবেলোর মানসিক সমস্যা ছিল এবং তিনি অস্বাভাবিক আচরণও করছিলেন। তিনি তাঁর অসুস্থতার ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন ফ্রান্সিসের বাবা ফ্র্যাঙ্কলিন ক্যাবেলো। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, 'আমি জানতাম যে মানসিকভাবে সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল না। আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। কেউ যখন তার অসুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, তবে আমি কখনওই মনে করিনি যে সে তার সন্তানের কোনো ক্ষতি করতে পারে; কারণ একজন মা হিসেবে সে তার সন্তানের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ও সুরক্ষাপরায়ণ ছিল। সে সবসময় সন্তানের খেয়াল রাখত। এমন কিছু সে করতে পারে—এটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। পুরো পরিবার এখন মানসিকভাবে বিধ্বস্ত।'
