Published on
:
2 min read
বয়স তো স্রেফ একটা সংখ্যা! ৫২ বছরে পা দিয়েও সে কথা বারবার প্রমাণ করে চলেছেন বলিউড অভিনেত্রী করিশ্মা কাপুর। আজও তাঁর টানটান ত্বক আর ফিটনেস যেন তরুণীদেরও টেক্কা দেয়। কিন্তু এই চিরযৌবনের আসল রহস্য কী? ক্র্যাশ ডায়েট নাকি কঠিন ওয়ার্কআউট? করিশ্মা কাপুরের পুষ্টিবিদ এবং সেলিব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট রুজুতা দিবেকর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় খোলসা করেছেন সেই সিক্রেট। তাঁর মতে, কোনও অলৌকিক খাবার বা ক্ষণস্থায়ী ডায়েট নয়, বরং ৩০ বছর বয়সের পর থেকে মেনে চলা কিছু সহজ ও পুষ্টিকর অভ্যাসই ৫০-এর কোঠায় পৌঁছেও শরীরে এমন চমক ধরে রাখতে পারে। করিশ্মার উদাহরণ টেনে রুজুতা মহিলাদের ৩টি বিষয় মাথায় রাখার কথা বলছেন।
১. ‘৩০-এর কোঠা’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়
রুজুতার মতে, ৩০ থেকে ৪০ বছর—এই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হরমোন, শরীরের গঠন, মেটাবলিজ়ম এবং ত্বক-চুলের স্বাস্থ্যে মারাত্মক বদল ঘটতে শুরু করে এই সময় থেকে। অনেক মহিলাই শারীরিক বড় সমস্যা না দেখা দেওয়া পর্যন্ত নিজের যত্ন নেওয়ার কথা ভাবেন না। কিন্তু ৩০-এর কোঠাতেই নিজের ডায়েট, শরীরচর্চা ও রুটিনে নজর দেওয়া উচিত। এই সময়ে তৈরি সুস্থ অভ্যাসই পরবর্তী বয়সে ফিট থাকতে সাহায্য করে।
২. ওজন নয়, স্ট্রেন্থ-এর জন্য ব্যায়াম করুন
৩০-এর পর থেকে শরীরে মেদ জমার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। তাই ওজন কমাতে অনেকেই জিমে ছোটেন। রুজুতার মতে, এই মনোভাবে বদল আনা দরকার। সপ্তাহে অন্তত ৩ ঘণ্টা শরীরচর্চা বা শারীরিক পরিশ্রম করার লক্ষ্য রাখতে হবে। তা হতে পারে হাঁটা, সাঁতার কাটা, স্ট্রেন্থ ট্রেনিং, যোগাসন বা নাচ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে মেনোপজ়ের আশপাশে নারীদের হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে হাড়ের স্বাস্থ্য, পেশি এবং হার্ট ভালো থাকে।
৩. ভাত বা প্রিয় খাবার বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই
হুজুগে গা ভাসিয়ে ডায়েট ট্রেন্ড অনুসরণ করার কঠোর বিরোধী রুজুতা। ভাত, শর্করা বা রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ দিয়ে কোনও দীর্ঘস্থায়ী উপকার পাওয়া যায় না। তিনি জানান, করিশ্মা কাপুর তাঁর ওজন কমানোর জার্নিতে রাতে মাছের ঝোল, ভাতও খেয়েছেন! ডায়েটে ডাল, ভাত, রুটি, দই, তরকারির মতো ভারতীয় খাবার রাখা উচিত, যা শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম, আয়রন, ভিটামিন B12 ও D-র জোগান দেবে।
আসল সিক্রেট হলো ‘ধারাবাহিকতা’
নির্দিষ্ট কোনও একটি খাবার বয়স কমিয়ে দিতে পারে না। খাবারে পুষ্টির বৈচিত্র্য, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপমুক্ত থাকা এবং প্রতিদিনের সক্রিয় জীবনযাত্রাই দীর্ঘমেয়াদী সৌন্দর্যের আসল চাবিকাঠি। ক্ষণস্থায়ী উপবাস বা কঠোর ডায়েট নয়, প্রতিদিন ছোট ছোট ভালো অভ্যাসের মধ্য দিয়েই ফিটনেস বা ত্বকের লাবণ্য বজায় থাকে!