জ্বালানিসংকট কাটিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অর্থনীতির পূর্ণ পুনরুদ্ধারে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এফবিসিআই’র সেমিনার
স্টাফ রিপোর্টার
জ্বালানিসংকট কাটিয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে অর্থনীতির পূর্ণ পুনরুদ্ধারে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এফআইসিসিআই সভাপতি রূপালী চৌধুরী। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শু জিওং, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণকে অবাস্তব আশ্বাস দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিতে চান না তিনি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই বছরে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে, তৃতীয় বছরে গতি ফিরবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অর্থনীতি পূর্ণমাত্রায় ঘুরে দাঁড়াবে।
বর্তমান সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় জ্বালানিসংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। এর সঙ্গে আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল দেনা ও বিভিন্ন খাতের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে কঠিন করেছে।
জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাপেক্সের মাধ্যমে ৫০টি নতুন কূপ খননের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। স্থলভাগ ও সমুদ্রে অনুসন্ধানের পাশাপাশি উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সরকার অন্তত ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। এ খাতের অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের কর ছাড়ও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে প্রায় ২৩৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের কারণে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার মারাত্মক সংকটে পড়েছিল। তবে বর্তমানে ব্যাংক খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক সংকেত দেখা যাচ্ছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমানে আমাদের ব্যবসা পরিচালনার খরচ অনেক বেশি এবং ব্যবসা করার সহজলভ্যতার সূচকও বেশ নি¤œমুখী। আমরা দীর্ঘকাল ধরে একটি অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণনির্ভর দেশ হিসেবে চলেছি। এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি আলাদা সংস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছেÑএকটি নীতিমালা তৈরি করবে এবং অন্যটি তা বাস্তবায়ন করবে। এই বড় সিদ্ধান্তটি সব বাধা সত্ত্বেও আমরা নিয়েছি।’
জ্বালানিসংকট নিরসনে সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এক বা দেড় দশক ধরে আমরা নিজস্ব গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধান করিনি। এটিই এখন আমাদের প্রধান কাজ। বাপেক্সকে দিয়ে ৫০টি নতুন কূপ খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং পিএসসি (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্র্যাক্ট) চুক্তি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। স্থলভাগ ও সমুদ্রÑউভয় অঞ্চলেই (অফশোর ও অনশোর) অনুসন্ধান করা হবে। পাশাপাশি আমরা অন্তত ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু জিওং, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ম তামিম, বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ ও এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম।
