রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে। যোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে মার্কেটের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা ভোটারদের। উন্নয়নের স্বার্থে পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়ী করতে চান তাঁরা। অন্যদিকে, জয়ী হয়ে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রার্থীরা। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনী এলাকা ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে মার্কেটটির নিজস্ব কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১১টি পদের বিপরীতে মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সভাপতি পদে ৩ জন, সহসভাপতি পদে ২ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন, কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন, সহকোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন, দপ্তর সম্পাদক পদে ২ জন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ৩ জন এবং সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। মোট ভোটার সংখ্যা ২২৭ জন।
নির্বাচন চলাকালে একাধিক প্রার্থী বলেন, “আজ আমাদের মিলনমেলা। সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে, খুবই ভালো লাগছে। আমরা প্রার্থীরা ভাই ভাই। যিনি জয়ী হবেন, তাঁর সঙ্গে এক হয়ে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে কাজ করব। উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। জয়ী হলে ইশতেহার বাস্তবায়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখব।”
একাধিক ভোটার বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব প্রার্থীই আমাদের আপনজন। সবাইকে তো আর জয়ী করতে পারব না। তবে যিনি জয়ী হবেন, তিনি সবাইকে নিয়ে বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীদের উন্নয়নে কাজ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সব ব্যবসায়ীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন, এটাই আমাদের কাম্য।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কবির আহমেদ সরকার বলেন, “নির্বাচনের সব নিয়মকানুন মেনে প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। সকাল থেকেই ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন। ভোটার বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রার্থীরা একে অপরের আপনজন। কোনো বিশৃঙ্খলা হওয়ার সুযোগ নেই। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।”
এ সময় সহকারী নির্বাচন কমিশনার আশরাফ আহমেদ, শামসুজ্জামান রনি, দিলীপ চৌধুরী টুম্পা ও শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আবদুল বাতেন নকী, হাজী নাসির উদ্দীন, আবদুল হালিম, মাসুদ রানা মুকুল, হাবিবুর রহমান লিটন ও এস এম শামসুদ্দিন বাহার।
ভোটার তালিকা ও প্রার্থীদের তথ্য যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যরা হলেন এ জে এম আবদুর রাজ্জাক (যুগ্ম আহ্বায়ক, বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর), মোরশেদ (এম এইচ এলন ফ্যাশন), হাজী সিরাজুল ইসলাম (আজমির ট্রেডার্স), মিজানুর রহমান (টপ ওয়ান ট্রেডার্স) ও আবদুল হান্নান (আলী অ্যান্ড ট্রেডার্স)।
নির্বাচনের সার্বিক পর্যবেক্ষণে ছিলেন আবদুল আলীম নকী (সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর), রেজাউর রহমান ফাহিম (সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি, বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর), মিজানুর রহমান বাচ্চু (সাবেক সদস্য, আহ্বায়ক কমিটি, বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর) ও মিজানুর রহমান মিজান (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, বনানী থানা বিএনপি)।
