আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের একটি হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একাধিক দাবিমতে, নিহত ব্যক্তি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার ইমরান, যার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগসাজশ ছিল। তবে এই ভিডিওর সত্যতা, ঘটনাস্থল কিংবা নিহতের পরিচয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নিরপেক্ষ সূত্রে নিশ্চিত খবর মেলেনি। এমনকি পাকিস্তান পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সরকারিভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে ১৩ অক্টোবরের একটি সময়চিহ্ন (টাইমস্ট্যাম্প) দেখা যাচ্ছে। ফুটেজে ধরা পড়ে, এক ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে একটি আবাসনের ফটক দিয়ে বের হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই সাদা পোশাক পরা এক বন্দুকবাজ তাঁর পথ আটকে দাঁড়িয়ে পরপর গুলি ছুড়তে শুরু করে। আতঙ্কে চালক বাইক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান। মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থাতেও ওই ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে হাত দিয়ে হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু আততায়ী পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে অনবরত গুলি চালাতে থাকে।
ঘটনার নৃশংসতা এখানেই শেষ নয়। প্রথম পিস্তলের গুলি শেষ হতেই হামলাকারী শান্ত মাথায় নিজের ব্যাগ থেকে আরেকটি বন্দুক বের করে আবারও গুলি চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে মাটিতে নিথর দেহ ফেলে রেখে, দুই হাত তুলে উল্লাস প্রকাশ করতে করতে অস্ত্র হাতে এলাকা ছাড়ে ওই শুটার।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠছে, এটি কোনও সাধারণ সংঘর্ষ নয়, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি 'টার্গেটেড কিলিং'। পাকিস্তানজুড়ে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের হাতে ভারতবিরোধী একাধিক জঙ্গি নেতার একের পর এক প্রাণ হারানোর যে ধারা সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ করা গেছে, এই ঘটনাটিকেও অনেকে সেই তালিকারই অংশ বলে মনে করছেন। তবে ভিডিওটিতে থাকা সময়চিহ্ন ছাড়া ঘটনাটি আদতে কবে এবং কোথায় ঘটেছে, তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি। পাকিস্তান প্রশাসন বা সে দেশের সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় গোটা ঘটনাটি ঘিরে ধোঁয়াশা ও রহস্য জারি রয়েছে।
