Published on
:
2 min read
তথাগত সেনগুপ্ত
সত্তরের মাঝামাঝি সময়ে সল্টলেকে ধীরে ধীরে শুরু হয়েছিল বসবাস। তখনও চারদিকে জঙ্গল। দিনে–রাতে শেয়ালের আনাগোনা। ধূ ধূ ফাঁকা জমি। আজকের সল্টলেকের সঙ্গে তার আকাশ–পাতাল তফাত।
চারটে বাঙালি এক জায়গায় হলেই বেজে ওঠে পুজোর ঢাক। ১৯৭৬–এ প্রথমবার দুর্গাপুজো হয়েছিল সল্টলেকের চারটি ব্লকে — সি ডি, বি সি, এ ই এবং ই সি। সল্টলেকের প্রবীণ আবাসিক সুভাষ বসুর কথায়, ‘তখন বাসিন্দা অনেক কম। ব্লকে বাড়ির সংখ্যা হাতে–গোনা। তবে আমাদের মধ্যে একটা গভীর আত্মীয়তা ছিল। পুজোর সময়ে জোগাড় থেকে, ভোগ রান্না সবই করতেন আবাসিকরাই।’
কালের নিয়মে ৫০ বছর অতিক্রান্ত। এ বার ওই চারটি ব্লকেই সুবর্ণজয়ন্তী। কেউ নতুন থিমে সাজাচ্ছেন মণ্ডপ, কেউ ধরতে চাইছেন ৫০ বছর আগের সাবেকীয়ানা। ৫০ বছর আগে যাঁদের হাত ধরে পুজোর শুরু, তাঁদের বেশিরভাগই আজ নেই। যাঁরা রয়েছেন, সুবর্ণজয়ন্তীতে স্মৃতি রোমন্থন করছেন তাঁরা।
সি ডি ব্লকে পুজোর ভাবনা — ‘ফিরে দেখা’। জাঁকজমকের চেয়ে ঘরোয়া পরিবেশেই পুজো হবে। পুজো কমিটির সম্পাদক সৌম্য মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, ‘ব্লকের প্রথম পুজোর সাক্ষী দু’জন প্রবীণ আবাসিকের হাতেই উদ্বোধন হবে সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের পুজোর।’ শঙ্খ বাজানো, আলপনা দেওয়া–সহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন আবাসিকরা।
সুবর্ণজয়ন্তীতে ই সি ব্লকের থিম ‘অক্ষৌহিনী’। মহাভারতের সেনার সেই বিন্যাস ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপে। এ ছাড়াও বিভিন্ন আর্ট ফর্মে আদি পর্ব থেকে শ্রীকৃষ্ণের মহানির্বাণ ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্য। ই সি ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রুদ্রদেব মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘মিউজি়য়ামের মতো করে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ।’
অন্যান্য বছরে এ ই ব্লকে (পার্ট-২) সাবেকী পুজোই হয়। সুবর্ণজয়ন্তীতে আলোর খেলায় তাক লাগাতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের থিমই ‘আলো’। পুজোর কনভেনর রুদ্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, অন্ধকারকে দূর করে আলো, আবার আদি শক্তির উৎসও সেই আলো। সেই আলোর মাধ্যমে প্রকৃতিরূপে দেবী দুর্গাকে পুজো করার কথাই তুলে ধরা হয়েছে এখানে। মণ্ডপের ভিতরে তৈরি হয়েছে ৩৫০ ফুটের র্যাম্প। প্রবেশ দ্বার থেকে প্রতিমা দর্শন। আলো-আঁধারির মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতিকে অনুভব করবেন দর্শকরা।
বি সি ব্লকের থিম ‘জিয়ন কাঠি’। এর মধ্যে দিয়ে প্রকৃতিকে বাঁচানোর বার্তা দিয়েছে ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। পুজোর যুগ্ম সম্পাদক অনির্বাণ মিত্র বলছেন, ‘আমরা প্রকৃতিকে যে ভাবে ধ্বংস করছি তা নিজেদের জন্যই ক্ষতিকারক। গাছকে নিজের আত্মীয় ভাবলে আরেকটা নেপাল হওয়া আটকাতে পারব।’ থিম মিউজি়কে তুলে ধরা হয়েছে বট-অশ্বত্থের বিয়ের কথকতা। মহালয়ার দিন বিশেষ ভাবে সক্ষম ৬২ জন শিশুকে নিয়ে একটি ওয়াল পেইন্টিং করা হয়েছিল। উদ্যোক্তাদের কথায়, ‘বড় মাপের পুজো তো অনেক হয়। আমরা চেয়েছি বড় মনের পুজো করতে।’
