একজন তরুণ উদ্যোক্তা থেকে দেশের ফিটনেস সরঞ্জাম খাতের পরিচিত ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার গল্পটা সহজ ছিল না। শরীয়তপুরের সন্তান উদ্যোক্তা সাজ্জাদ রাশেদ দূরদৃষ্টি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশন। ২০১০ সালে ছোট পরিসরে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি দেড় দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশের হোমজিম ও ফিটনেস সরঞ্জাম খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এক সময় দেশে উন্নতমানের আমদানিকৃত ফিটনেস সরঞ্জামের সংকট ছিল। ক্রেতাদের অনেকেই সেকেন্ড হ্যান্ড কিংবা রিফার্বিশড পণ্যের ওপর নির্ভর করতেন। সেই পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত নতুন ফিটনেস সরঞ্জাম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন সাজ্জাদ। চীনা আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ঋণপত্র বা এলসি খোলা, ব্যাংকিং অর্থায়ন ও পণ্য যাচাইয়ের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নিজের ব্যবসা। একসময় লাখ টাকার বেশি দামের ট্রেডমিল এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাচ্ছে ২৮ হাজার টাকা থেকে। পাশাপাশি সারা দেশে ২২টি সার্ভিস পয়েন্টের মাধ্যমে বিক্রয়োত্তর সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘বি অ্যাক্টিভ’ও পেয়েছে গ্রাহকদের আস্থা। দেশের বাইরেও আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসীরা প্রতিষ্ঠানের ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশে পরিবারের সদস্যদের জন্য ফিটনেস সরঞ্জাম কিনছেন।
ব্যবসার শুরুর গল্প, চ্যালেঞ্জ, ফিটনেস সরঞ্জামের বাজার, পণ্যের মান এবং গ্রাহকসেবার নানা দিক নিয়ে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশনের মালিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাজ্জাদ রশিদ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন শাহজালাল রোহান
এনটিভি অনলাইন: আপনারা মূলত কী ধরণের পণ্য নিয়ে কাজ করে থাকেন?
সাজ্জাদ রাশেদ: আমরা বিভিন্ন স্বনামধন্য ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের এক্সারসাইজ এবং স্পোর্টস ইক্যুইপমেন্ট বিক্রি করে থাকি। আমাদের কাছে বিশ্বমানের ফিটনেস পণ্যের বিশাল কালেকশন রয়েছে। শুরুতে আমরা মূলত অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তবে সময়ের সাথে সাথে এবং গ্রাহকদের ভালোবাসায় আমাদের ব্যবসার পরিধি অনেক বেড়েছে। এখন আমাদের রিটেইল ও হোলসেল শো-রুম বা ব্রাঞ্চগুলোতে প্রচুর কাস্টমার আসছেন। আলহামদুলিল্লাহ, এখন আমরা সারা বাংলাদেশ থেকেই কাস্টমারদের ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। আমরা প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। বিশ্ববাজারে নতুন কী ইন্নোভেশন আসছে, তা দেখতে আমি নিজে এবং আমার টিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বা এক্সিবিশনে অংশ নিই। যেমন- গত বছর আমরা জার্মানি, তাইওয়ান, হংকং ও চায়না ভিজিট করেছি। সেখান থেকে বিশ্বমানের ও নতুন প্রযুক্তির আধুনিক ফিটনেস প্রোডাক্টগুলো আমরা বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করি।
এনটিভি অনলাইন: বাংলাদেশে এই খাতের শীর্ষে আসার পেছনে আপনার কাছে রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশনের প্রধান শক্তি কী মনে হয়?
সাজ্জাদ রাশেদ: আমি মনে করি আমাদের মূল শক্তি হলো পণ্যের কোয়ালিটি বা গুণগত মান মেইনটেইন করা এবং শক্তিশালী 'আফটার সেলস সার্ভিস' (বিক্রয়োত্তর সেবা)। এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমরাই প্রথম সারা বাংলাদেশে হোম সার্ভিস চালু করেছি। বর্তমানে সারা বাংলাদেশে আমাদের ২২টি সার্ভিস পয়েন্ট রয়েছে, যার ফলে কাস্টমাররা একদম নির্দ্বিধায় বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন। আমি মনে করি, আসল ব্র্যান্ডিং নিজেদের মুখ থেকে হয় না; আসল ব্র্যান্ডিং তৈরি হয় কাস্টমারদের মাধ্যমে। একজন ক্লায়েন্ট যখন আমাদের কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনে ভালো ফিডব্যাক পান, কমফোর্ট ফিল করেন এবং আমাদের সার্ভিস ও সহজে যোগাযোগের সুবাদে সন্তুষ্ট হন, তখন তিনিই তাঁর বন্ধু বা পরিচিতদের কাছে আমাদের কথা বলেন। গ্রাহকদের এই সন্তুষ্টি ও মাউথ-পাবলিসিটিই আমাদের রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশন এবং আমাদের 'বি অ্যাক্টিভ' ব্র্যান্ডের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি, যা আমাদের আজকে বাংলাদেশের এই শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
এনটিভি অনলাইন: এই ইন্ডাস্ট্রিতে আপনাদের কাজের পেছনের যাত্রার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
সাজ্জাদ রাশেদ: আমরা যখন প্রথম দেখতে পেলাম, এক সময় আমাদের দেশে ফিটনেস ইক্যুইপমেন্টের ইন্ডাস্ট্রি খুব ছোট ছিল কিন্তু মানুষের চাহিদা ছিল। তখন ভালো পণ্য বা চীন থেকে সঠিক সোর্সিং করাটা এতটা সহজ বা অ্যাভেলেবল ছিল না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যেত মানুষকে রিফার্বিশড বা সেকেন্ড হ্যান্ড প্রোডাক্ট বিক্রি করা হতো। এই চ্যালেঞ্জিং সময়েই আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়। আমরা আস্তে আস্তে ডে-বাই-ডে যখন কাস্টমারদের কাছে পণ্যগুলো আরও সহজলভ্য করে তুলি। যেমন-২০১০-১৫ সালের দিকে একটি ট্রেডমিল কিনতে গেলে কাস্টমারদের প্রায় ১ লক্ষ টাকা বা তার বেশি দাম দিতে হতো। কিন্তু রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশন এখন এমনভাবে কাজ করেছে যে, আমাদের একটি ইলেকট্রিক ট্রেডমিল মাত্র ২৮,০০০ টাকা থেকেই কাস্টমাররা কিনতে পারছেন। এভাবে শুরু করে আমরা ৫০, ৬০, ৭০, ৮০, ৯০ হাজার থেকে ১ বা ২ লক্ষ টাকার পণ্যও নিয়ে এসেছি। ক্লায়েন্টের চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী সেরা পণ্যগুলো আমরা দেশীয় বাজারে নিয়ে এসেছি।
এনটিভি অনলাইন: দেশের মানুষের মধ্যে ফিটনেস ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
সাজ্জাদ রাশেদ: আমাদের দেশে মানুষের ফিটনেসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সবাই এখন স্বাস্থ্যসচেতন হতে চান। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী কিংবা বয়স্ক যারা ঘরে থাকেন, তাদের অনেকেই বাইরে গিয়ে হাঁটার সুযোগ পান না। আমাদের দেশের বাইরে যেমন পার্ক বা হাঁটার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে, আমাদের দেশে সেটা সবসময় থাকে না। শিশু, বয়স্ক কিংবা বিশেষ করে আমাদের ঘরের নারীদের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা। এই কারণেই মনে হয়েছে যে ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার এবং মানুষের ঘরে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে। আমরা যখন ইন্ডাস্ট্রিতে ইন করলাম, তারপর ডে-বাই-ডে আমরা এটাকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। প্রোডাক্টের ক্ষেত্র, ব্র্যান্ড এবং বিভিন্ন বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে আমরা সবসময় সচেষ্ট ছিলাম।
এনটিভি অনলাইন: ব্যবসা শুরুর প্রাথমিক দিনগুলোতে আপনাদের কী ধরনের চ্যালেঞ্জ বা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?
সাজ্জাদ রাশেদ: আমরা যখন প্রথম ব্যবসা শুরু করি, তখন চায়নার সাথে যোগাযোগ করাটা এতটা সহজ ছিল না। এলসি ওপেন করার বিষয়টি আমাদের কাছে অনেক জটিল একটি প্রক্রিয়া বলে মনে হতো। এছাড়া ব্যাংকের ফাইন্যান্সের ব্যাপার, নানা ধরনের ডকুমেন্টেশন এবং চায়না থেকে সঠিক পণ্য সময়মতো পাব কি না-এমন নানা ভয় ও শঙ্কা কাজ করত। অনেক সময় অর্ডার করা সত্ত্বেও কোম্পানি ঠিকমতো সঠিক পণ্য দিচ্ছে কি না, কিংবা পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা তো ছিলই। প্রোডাক্ট চয়েস বা পছন্দের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। যেমন- আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা একরকম, আর ইউরোপিয়ান বা অন্যান্য দেশের মানুষের চাহিদাও ভিন্ন। আমাদের দেশের মানুষের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পণ্যটি নির্বাচন করাটা বেশ কঠিন ছিল। এখন এই বিষয়গুলো অনেক সহজ হয়ে গেছে। চায়নার সাথে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ব্যবসা করতে করতে অনেক কোম্পানির সাথে আমাদের চমৎকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ফলে আগের সেই জটিলতাগুলো এখন আর নেই, সবকিছুই আমাদের জন্য বেশ সহজ হয়ে গেছে। এই বাজারটা এখন আসলে অনেক গ্রো করেছে বা বড় হয়েছে। মানুষ এখন অনেক স্বাস্থ্যসচেতন। যেমনটা আমি আগে বললাম, মানুষ বাইরে গিয়ে হাঁটার পর্যাপ্ত জায়গা বা হাঁটার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে না। পার্ক বা খোলা জায়গায় পর্যাপ্ত স্পেসের অভাব রয়েছে।
এনটিভি অনলাইন: মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যায় এই ফিটনেস ইক্যুইপমেন্টগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখছে?
সাজ্জাদ রাশেদ: মানুষের এখন প্রচুর ডায়াবেটিস ও ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা ফেস করছে। ফলশ্রুতিতে, আমাদের এই বাজারটি এখন অনেক বড় হয়েছে এবং কাস্টমারদের ডিমান্ডও অনেক বেড়েছে। কাস্টমাররা প্রতিনিয়ত এই পণ্যগুলো পার্চেজ করছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দেশ তথা বাংলাদেশের কাস্টমারদের মাঝে ফিটনেস ইক্যুইপমেন্টের ওপর এখন ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। ওভারঅ্যাল বাংলাদেশের বাজারে আমাদের ‘বি অ্যাক্টিভ’ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর কারণ হলো, এই ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টগুলোর আফটার সেলস সার্ভিস বা বিক্রয়োত্তর সেবা খুবই সহজ। এছাড়া প্রোডাক্টের ভ্যারিয়েন্টও প্রচুর রয়েছে। ২৮,০০০ টাকা থেকে শুরু করে একজন কাস্টমার যেমন পণ্য কিনতে পারেন, তেমনি ২ লক্ষ টাকার পণ্যও আমাদের কাছে পাচ্ছেন। প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রতি বছরই আমরা নতুন মডেলগুলো বাজারে নিয়ে আসছি এবং পুরনো মডেলগুলোকে নতুন ভ্যারিয়েন্ট বা ভার্সনে আপডেট করে বাজারে ছাড়ছি। একজন কাস্টমার যখন একটি পণ্য কিনে দুই থেকে চার-পাঁচ বছর কোনো ঝামেলা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারেন এবং ভালো সার্ভিস পান, তখন তিনি তাঁর বন্ধু বা আত্মীয়দের কাছে ‘বি অ্যাক্টিভ’ ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানান। এভাবে কোয়ালিটি ও ভ্যারিয়েন্টের ওপর ভিত্তি করেই ‘বি অ্যাক্টিভ’ ব্র্যান্ডটি আজ বাংলাদেশের বাজারে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে। ওভারঅ্যাল বাংলাদেশের বাজারে আমাদের ‘বি অ্যাক্টিভ’ ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর মূল কারণ হলো, এই ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টগুলোর বিক্রয়োত্তর সেবা (আফটার সেলস সার্ভিস) খুবই সহজ এবং গ্রাহকবান্ধব। এছাড়া এই ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টের ভ্যারিয়েন্ট বা বৈচিত্র্যও প্রচুর রয়েছে।
এনটিভি অনলাইন: গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে আপনি কী পরামর্শ দেবেন, তাঁরা কীভাবে সঠিক পণ্যটি চয়েস করবেন?
সাজ্জাদ রাশেদ: কাস্টমারদের উদ্দেশ্যে আমরা বলব, আপনারা যখনই কোনো প্রোডাক্ট পার্চেজ করবেন, শুধু অনলাইন বেজড দেখে তা পার্চেজ না করে শোরুম ভিজিট করবেন। আমাদের যেমন রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশনের আফটার সেলস সার্ভিস এবং কাস্টমার সার্ভিসের নম্বর রয়েছে, আপনারা প্রয়োজনে সেখানে ফোন করবেন। কোনো প্রোডাক্ট পার্চেজ করার আগে অবশ্যই এটা নিয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নেবেন, শুনবেন ও বুঝবেন, তারপর প্রোডাক্টটি কিনবেন। না, শুধুমাত্র বাজেট দেখে ফিটনেস ইক্যুইপমেন্ট পার্চেজ করা ঠিক নয়। কারণ এতে আপনার ওজনের সাথে এটার অ্যাডজাস্ট হতে হবে, আপনার হাইটের সাথে অ্যাডজাস্ট হতে হবে এবং আপনার বাসায় কতজন মানুষ এটি ব্যবহার করবেন, তার ওপর নির্ভর করে কোন প্রোডাক্টটি আপনার জন্য প্রয়োজন তা ঠিক করতে হয়। এই বিষয়গুলো অবশ্যই নিশ্চিত করে তারপর একটি ট্রেডমিল বা ফিটনেস ইক্যুইপমেন্ট পার্চেজ করবেন, যেন আপনি এটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করতে পারেন। আমরা কখনোই চাই না যে আপনি এত টাকা দিয়ে একটি প্রোডাক্ট পার্চেজ করার পর অল্প কিছুদিনেই কোনো সমস্যার মুখে পড়েন। আমরা চাই আপনি যেন দীর্ঘ সময় এই প্রোডাক্টটি থেকে সার্ভিস পান। তাই সবকিছু দেখে, শুনে ও বুঝে তারপর কিনবেন। প্রয়োজন হলে রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশনের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে আপনারা এই ধরনের সকল তথ্য জেনে নিতে পারবেন। যেকোনো স্থান থেকেই পণ্য পার্চেজ করুন না কেন, সবসময় মনে রাখবেন যে আপনি যেন একটি ভালো আফটার সেলস সার্ভিস (বিক্রয়োত্তর সেবা) ডিজার্ভ করেন বা পান। যত দামি পণ্যই নিন না কেন, সেটি বিবেচনা করা জরুরি।
এনটিভি অনলাইন: ব্র্যান্ড সিলেকশন এবং পণ্যের পার্টস বা খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিয়ে আপনার পরামর্শ কী?
সাজ্জাদ রাশেদ: পণ্যটি কোন ব্র্যান্ডের এবং সেটি কতটা রিলায়েবল বা নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড, তা দেখা দরকার। এছাড়া ওই ব্র্যান্ডের পার্টস বা যন্ত্রাংশ সবসময় সহজে পাওয়া যাবে কি না, তাও দেখতে হবে। অনেক সময় বাজারে নতুন নতুন ব্র্যান্ড আসে যেগুলো একবারে বেশি দেখা যায় এবং পরবর্তীতে আর বাজারে থাকে না। ফলে পণ্যটি নষ্ট হলে পার্টস নিয়ে বড় বিপদে পড়তে হয়। তাই এমন একটি ব্র্যান্ডের পণ্য পার্চেজ করা উচিত যা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বাজারে সুনামের সাথে টিকে আছে। এতে করে ওয়ারেন্টি শেষ হওয়ার পরেও যদি কখনো পার্টস বা যন্ত্রাংশ নিজে পার্চেজ করে লাগাতে চান, তাও সহজে পাবেন। এই সমস্ত তথ্য ভালোভাবে জেনে, বুঝে এবং দেখে তারপর একটি ট্রেডমিল বা ফিটনেস ইক্যুইপমেন্ট কেনা উচিত। আর যেকোনো প্রয়োজনে রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশন সবসময় আপনাদের সেবা দিতে প্রস্তুত ও আনন্দিত থাকবে। আমরা রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশন শুধুমাত্র নিজস্ব আমদানিকৃত প্রোডাক্টগুলোই বিক্রি করে থাকি। নিজস্ব কিউসি চেক করার মাধ্যমে আমি কিংবা আমাদের টিম সবসময় চায়নায় থাকে এবং আমাদের প্রোডাক্টগুলো নিজেরা কিউসি চেক করেই শিপমেন্ট করে থাকি। এর মূল কারণ হলো আমরা কোয়ালিটির সাথে কোনো আপস করতে চাই না। আমাদের এখন ডেলিভারি ব্যবস্থা এতটাই সহজ হয়ে গেছে যে আপনি আপনার ঘরের দরজায় হোম সার্ভিস ও হোম ডেলিভারি পেয়ে যাবেন। আমরা যখন প্রথম ব্যবসা শুরু করেছিলাম, তখন লজিস্টিক সাপোর্ট এত সহজ ছিল না। কেবল বিভাগীয় শহর বা নির্দিষ্ট কিছু জেলাতে দেওয়া যেত। কিন্তু এখন আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং যেকোনো ইউনিয়ন পর্যায়েও আমাদের বড় পণ্যগুলো নিরাপদে পৌঁছে দিতে পারছি। সারা বাংলাদেশ জুড়ে আমাদের ২২টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে, ফলে কাস্টমাররা নির্দ্বিধায় আফটার সেলস সার্ভিস পেয়ে যাচ্ছেন। আপনারা নিশ্চিন্তে বাসায় বসে প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রোডাক্ট পার্চেজ করার পরের বাকি সমস্ত দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমাদের।
এনটিভি অনলাইন: বর্তমান সময়ে ব্যবসার প্রক্রিয়া এবং কাস্টমারদের কাছে পণ্য পৌঁছানোর বিষয়টি কতটা সহজ হয়েছে?
সাজ্জাদ রাশেদ: বর্তমান সময়ে ব্যবসাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে, বিশেষ করে কাস্টমারদের জন্য এবং আমাদের সেলার বা ইম্পোর্টারদের জন্য। কাস্টমারদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া এখন খুবই সহজ হয়েছে। রয়্যাল ব্লু কর্পোরেশনের নিজস্ব ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমাদের পণ্যের বিশাল কালেকশন রয়েছে, যেখান থেকে যার যেমন ইচ্ছা পণ্য বেছে নিতে পারেন। হ্যাঁ, ইমেইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমাদের দেশের বাইরে থেকেও প্রচুর অর্ডার আসে। অনেকে আমেরিকা, ইতালি, ইউরোপ বা বিভিন্ন দেশ যেমন- সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া থেকে তাঁদের বাবা-মা, স্ত্রী কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার করছেন। আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই ঘরে বসে কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করার অপশন রয়েছে। এছাড়া ডেলিভারির ক্ষেত্রে- ঢাকার মধ্যে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা পণ্যের ডেলিভারি নিশ্চিত করছি।
এনটিভি অনলাইন: অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকরা কীভাবে সেবা পাচ্ছেন?
সাজ্জাদ রাশেদ: আমাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে কাস্টমাররা খুব সহজেই প্রতিটি পণ্যের বিবরণ, ভিডিও, নতুন আপডেট এবং কোন কোন নতুন প্রোডাক্ট রিলিজ হচ্ছে তা দেখতে পারছেন। এছাড়া আমাদের ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টি পলিসিগুলোও সেখানে দেওয়া থাকে। কাস্টমাররা চাইলে সরাসরি আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজে তাঁদের ওয়ারেন্টি ক্লেইম করতে পারছেন।
