নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বাবার নামে সারের ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, বিষয়টি আগে জানা ছিল না। জানার পর জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে তিনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, সম্প্রতি হাতিয়া উপজেলার পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সারের ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে তমরদ্দি ইউনিয়নে স্থানীয় কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার বাবা মো. আব্দুল বাতেনের ‘মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজ’ নামে সারের ডিলার বাগিয়ে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন
সুপারিশ পাওয়া মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আব্দুল বাতেন বলে তিনি খবরের কাগজের কাছে স্বীকার করেন এবং স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ তার ছেলে বলেও জানান। তবে এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদকে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। অনেকবার কল দেওয়ার পর তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ খবরের কাগজেকে বলেন, ঘটনাটি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তারা এ ব্যাপারে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
আরও পড়ুন
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সারের ডিলার নিয়েছেন মোহাম্মদ দাউদ। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা এসব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এ দিকে হাতিয়া উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় চরকিং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকার পরও আকতার হোসেন নামে দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের এক ব্যক্তিকে ‘ওয়াসিম ট্রেডার্স’ নামে ডিলারশিপ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মো. মনির উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, সরকারি সারের ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিকটন হওয়া প্রয়োজন। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর গুদামের দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট। সে হিসাবে গুদামটির মেঝের আয়তন ৩২২ বর্গফুট। এতে ৮ থেকে ১০ মেট্রিক টনের বেশি সার রাখা যাবে না। যা উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের প্রত্যয়নপত্রেও উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনিয়ম না হলে তাহলে কীভাবে পর্যাপ্ত গুদাম না থাকা প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে? তার দাবি, এ উপজেলায় সার পাচারকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্থানীয় কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরদের পছন্দের লোকজনের নামে সারের ডিলারশিপ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
ইকবাল হোসেন/এএফ
