সাভারের একটি প্রেসে চলছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ। হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় মেশিন। কারণ লোডশেডিং। একটু পরই আবার চালু হলো মেশিন। কিন্তু বিদ্যুৎ নয়, এবার চলছে জেনারেটর দিয়ে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসেবে, বিদ্যুতের চেয়ে জেনারেটরে খরচ প্রায় দ্বিগুণ।
এদিকে বই ছাপানোর কাগজের সংকটের কথা বলছে রাজধানীর মাতুয়াইলের মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো।
বই ছাপানোর চুক্তি অনুযায়ী, ৪০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ বই সরবরাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কয়েকটি প্রেস তা করতে পারেনি। ৩০ অক্টোবরের প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির বই মাঠ পর্যায়ে শতভাগ পৌঁছানোর লক্ষ্য এনসিটিবির। কিন্তু, এখন পর্যন্ত তা পৌঁছেছে ৬৫ শতাংশের কিছু বেশি। আর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে মাধ্যমিক ও দাখিলের বই মাঠ পর্যায়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা হয়েছে ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, এনসিটিবি যদি শুরুতেই এই সমস্যাকে অ্যাড্রেস করে সমাধানের উদ্যোগ নিত, তাহলে এটা প্রকট আকার ধারণ করত না। এবং সংকট হতো না। উনারা এই সংকটগুলো লালন করে রাখতেছেন, ডিসেম্বরে আসলে অজুহাত তৈরি করে নিম্নমানের বইকে সরবরাহে উৎসাহিত করার জন্য।
সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল মাওলার দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ বই পৌঁছে যাবে মাঠ পর্যায়ে।
তিনি বলেন, কাগজের ক্রাইসিস এই মুহূর্ত পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি। কোনো প্রেস আমাকে অভিযোগ করেনি যে, কাগজের ক্রাইসিস। এটা যদি কেউ বলে থাকে ভুল বলেছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর মিলে মোট ৩০ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই সরবরাহের লক্ষ্য সরকারের। এতে খরচ হবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।
