গাইবান্ধা হাসপাতাল • ১৭৭ চিকিৎসকের পদে কর্মরত মাত্র ১৬ জন, ভোগান্তিতে রোগীরা
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এখন রোগীতে ঠাসা। জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটব্যথাসহ নানান সমস্যা নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। শিশু, ডায়রিয়া ও অন্যান্য ওয়ার্ডে ভর্তি দ্বিগুণেরও বেশি রোগী। ফলে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন শতাধিক রোগী। শয্যা না পেয়ে অনেককে থাকতে হচ্ছে বারান্দা ও মেঝেতে।
জেলার মানুষের একমাত্র চিকিৎসার প্রধান ভরসা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পৌর শহরসহ পার্শ্ববর্তী সাত উপজেলা থেকে প্রতিদিন আসছেন হাজারের বেশি রোগী। এর মধ্য অনেক রোগী সাধারণ সেবা নিয়ে বাড়িতে গেলেও ভর্তি হচ্ছেন শতাধিক। বর্তমানে হাসপাতালটিতে অন্তত ৫০০ রোগী ভর্তি রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালটেন্ট, সার্জারি, ইএনটি (নাক কান গলা), অর্থো-সার্জারি, অ্যানেসথেসিস্ট, চক্ষু, মেডিসিন, চর্ম ও যৌন রোগের কোনো চিকিসক নেই। সহকারী সার্জন ২৮ জনের জায়গায় রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার আটজন থাকার কথা থাকলে রয়েছেন মাত্র একজন। অন্যান্য পদেও রয়েছে জনবল সংকট ।

যেখানে চিকিৎসক থাকার কথা ১৭৭ জন এবং নার্স ১৪৪ জন, সেখানে মাত্র ১৬ জন চিকিৎসক ও ৭৮ জন নার্স দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। অন্যান্য পদেও জনবল সংকট রয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতি ওয়ার্ডই রোগীতে ঠাসা। শয্যায় জায়গা না হওয়া রোগীদের রাখা হয়েছে ওয়ার্ডের ভেতরে ও বারান্দার মেঝেতে। এরপরও রোগী আসা বন্ধ নেই। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে হাঁটার জায়গাও নেই। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা-আর্বজনা যেখানে সেখানে পড়ে আছে। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। জোগান দেওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র।
জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম ফকির হাটের শিল্পী বেগম (৩০) জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি গত তিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। সকাল বেলা একবার ডাক্তার এসে প্রেসক্রিপশন করে দিয়ে যায়। সারাদিন আর খোঁজ থাকে না। নার্সকে ডাকলে তারা আসতে চায় না। বাইরে থেকে ওষুধপত্র কিনে আনতে হয়।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সবই যদি বাইরে থেকে কিনতে হয়, ডাক্তার-নার্স ডাকলে না আসে, তাহলে এটি সরকারি হাসপাতাল হয় কেমনে? নামটা পরিবর্তন করে ‘মরণ হাসপাতাল’ দেওয়া যায় না!”
বিজ্ঞাপন
সুন্দরগঞ্জ দক্ষিণ শ্রীপুর বাড়াইকান্তি গ্রামের কুলসুম বেগম (৪৫) বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। চিকিৎসাতো দূরের কথা, আরও বেশি রোগী হয়েছি হাসপাতালে থেকে। ডাক্তারের কাছে রিলিজ নিয়ে রংপুরে যাব চিকিৎসার জন্য।’
রোগীর স্বজন লাভলী বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে কোনো ওষুধ নেই। খাবার পানি ও ওয়াশরুমের অবস্থা খুবই বাজে। মানুষ তাহলে কীভাবে থাকবে? সবাই রোগী নিয়ে অস্বস্তির মধ্যে পড়েন।’
বিজ্ঞাপন

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝড়ের ধানগড়া গ্রামের বাসিন্দা ইসমাঈল হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার তিন বছর বয়সের সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করে বিপদে পড়েছি। একদিন থাকার পর সন্তান সুস্থ হওয়াতো দূরের কথা, রোগ আরও বাড়ছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।’
এসব বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসিফ-উর রহমান বলেন, ‘১৭৭ জন চিকিৎসকের সেবা মাত্র ১৬ জন দিয়ে কীভাবে সম্ভব? শয্যার চেয়ে ভর্তি দ্বিগুণ রোগী। এই সামান্য জনবল দিয়ে আর কতটুকু সেবা দেওয়া সম্ভব? তারপরও প্রতিনিয়ত সাধ্যমতে চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য।’
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শহিদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদে জনবল সংকট রয়েছে। এত অল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে এত লোকের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও প্রতিনিয়ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। তবে আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
এএনএইচএস/এসআর/জেআইএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
