এনসিটি বা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বর্তমানে সক্ষমতার চেয়ে বেশি সেবা দিয়ে একটি লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নতুন অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সুযোগও সীমিত; এই অবস্থায় এটি বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার কারণ কী?
বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে সরকার কারণ দেখাচ্ছে বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ করে আধুনিকায়ন করবে, দুর্নীতি কমবে, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় কমে আসবে ইত্যাদি। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের কাস্টমসের দুর্নীতি না কমিয়ে ও বন্দরের বাইরে অবকাঠামোগত সক্ষমতা না বাড়িয়ে বিদেশি কোম্পানির কাছে দিলে এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা কম। বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এমন অবকাঠামো বিদেশি অপারেটরের কাছে পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ দিলে দীর্ঘ মেয়াদের আমাদের নীতিগত স্বাধীনতা খর্ব হবে এবং তা পুনরুদ্ধারের উপায় থাকবে না। কাজেই বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে কারণ হলো জাতীয় স্বার্থের চেয়ে বিদেশি স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। এর মধ্য দিয়ে সরকার নিজস্ব সক্ষমতা গড়ার দায় থেকে মুক্তি পেতে চায়। ভবিষ্যতে সমস্যার সমাধান না হলে সেই দায় বিদেশি অপারেটরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সরকার দায় এড়াতে চায়।
উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে শুরু হওয়া জিটুজি বা পিপিপি প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কোম্পানিকে চুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব?
জণগণকে অনেক কিছুই বোঝানো যায়, প্রতিশ্রুতি দেওয়া যায়। প্রতিশ্রুতি দিতে কষ্ট হয় না। মুখে স্বচ্ছতা ও জাতীয় স্বার্থরক্ষার কথা বলা সহজ। কিন্তু অন্যের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা বাস্তবে কঠিন। যেমন বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, উভয়েই যদি তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তখন একে অপরের ওপর দায় চাপাবে এবং কোনো পক্ষই শক্ত অবস্থান নিয়ে একে অন্যকে বাধ্য করতে পারবে না। এ রকম ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবে জণগণের কাছে জবাবদিহির পথ সংকুচিত হবে।
বন্দর ব্যবহারের শুল্ক একলাফে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধির কারণ কী?
বিদেশি অপারেটরের মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য সরকার আগেই শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। পরে শুল্ক বৃদ্ধি করলে বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠত। তাই আগেই পরিকল্পিতভাবে শুল্ক বাড়িয়ে নিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকেরা।
দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান টার্মিনালের পরিচালনা বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?
ঝুঁকি বিষয়টা সব সময় আগে থেকে বোঝানো যায় না। একটা ঘটনা ঘটে গেলে মানুষ যত সহজে বুঝতে পারে কেন ক্ষতি হয়েছে, তত সহজে আগে থেকে অনুধাবন করানো যায় না। বিশেষ করে তা যখন হয় ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি, ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং বহু অংশীজনের সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।
এ ক্ষেত্রে আমরা অন্য উন্নয়নশীল দেশের উদাহরণ দেখতে পারি। যেমন, জিবুতিতে দেশটি দোরালেহ টার্মিনালের মূল শেয়ারহোল্ডার হওয়া সত্ত্বেও চুক্তির মারপ্যাঁচে এর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে চলে যায়। ২০১৮ সালে জিবুতি সরকার জাতীয় স্বার্থে এই চুক্তি বাতিল করলে ডিপি ওয়ার্ল্ড আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়। লন্ডনের আন্তর্জাতিক সালিসি আদালত জিবুতির সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে বিদেশি কোম্পানির পক্ষে রায় দিলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে।
অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির সুযোগে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) বন্দর ও খনিজসম্পদের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যায়। এর ফলে কঙ্গোর মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রপ্তানির প্রধান রুট ও জাতীয় অর্থনীতির লাইফলাইন রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দেশি সংস্থাগুলো ঋণের ফাঁদে পড়ে। উভয় দেশের অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে যে স্পর্শকাতর অবকাঠামোতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সার্বভৌমত্বের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।
ধরুন, কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোনো বিদেশি শক্তি যদি আমাদের বন্দর তার শত্রুকে আক্রমণের জন্য ব্যবহার করতে চায়, যেই শত্রুর সঙ্গে আমাদের আবার নির্ভরতার সম্পর্ক রয়েছে, তখন দেশীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে হলেও বাংলাদেশ বাধ্য হতে পারে বন্দর ব্যবহার করতে দিতে। তখন সেটা কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কার কতটুকু নিয়ন্ত্রণ থাকবে সেগুলো বড় প্রশ্ন হয়ে যাবে। বাংলাদেশের নীতিগত সার্বভৌমত্ব থাকবে না। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে দেশ। এমনিতেই বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দুর্বল, তার ওপর সাম্প্রতিক অনেক ঘটনায় আমরা দেখেছি বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে দুর্বলতা প্রদর্শন করেছে। মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি করার পর তার কয়েক দিনের মধ্যে পাল্টা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ঘোষণা করেছে অথচ চুক্তি অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনে যাচ্ছি, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের ও আমদানির চুক্তি করে যাচ্ছি। প্রবাসী শ্রমিক বিদেশে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয় অথচ বাংলাদেশ খবর তো রাখেই না, উল্টো পুরো ঘটনা না জেনেই নিজ দেশের নাগরিককে দোষারোপ করে। এই সবকিছু নির্দেশ করে বাংলাদেশ প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে না। এতে জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে, ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ে। কাজেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বা কোনো জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নিজ স্বার্থ রক্ষা করতে যে পারবে না, এই প্রমাণ আমাদের চোখের সামনেই বিদ্যমান। বন্দরের পরিচালনা হস্তান্তর যে এই ঝুঁকি আরও বাড়াবে তা হিসাব-নিকাশ করে দেখিয়ে বোঝানোর বিষয় না। কৌশলগত ঝুঁকি সব সময় সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির অঙ্ক দিয়ে বোঝানো যায় না। পূর্ব অভিজ্ঞতা দিয়েও বোঝা যায়।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেশীয় পক্ষ থেকে পরিচালনার সময় দুর্নীতি এবং পণ্য খালাসে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগ আছে। এসবের সত্যতা কতটুকু?
পণ্য খালাসে দেরির কারণ কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতা এবং সে কারণে কনটেইনার ইয়ার্ডে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকতে বাধ্য করা। কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রতার কারণে যেসব ব্যবসায়ী বেপরোয়া হন, ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে তারা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন পক্ষকে বাড়তি অর্থ দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে চান। এই কনজেশন যদি না থাকত তাহলে দুর্নীতির সুযোগই তৈরি হতো না। কাজেই দুর্নীতি কেন হচ্ছে সেই প্রশ্ন না তুলে, সিস্টেম একই রেখে যদি বলা হয় মানুষ পরিবর্তন করলেই সব সমস্যা হবে, তা হবে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি। যে কারণে এত বড় অভ্যুত্থানের পর শাসকের চেহারা পরিবর্তন হয়েছে, দুর্নীতি লুটপাটের সিস্টেম পরিবর্তন হয়নি, সেই একই কারণে কিছু অ্যাক্টর পরিবর্তন করলেই সিস্টেম পরিবর্তন হয় না। বিদেশি কোম্পানি বড়জোর কিছু আধুনিকায়ন করতে পারবে, কিন্তু তারপরেও যে সিস্টেম পরিবর্তন হবে, তা বলা যায় না।
বিদেশি অপারেটরকে দিলেই বন্দরের কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা বাড়বে, এই দাবির ভিত্তি কতটুকু?
দেখুন, এ রকম দাবি করা যায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দেখে। ডিপি ওয়ার্ল্ড এসে বন্দরের অবকাঠামোর বাইরে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে পারবে না। সেটার দায় আমাদের। প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চয় বাড়তে পারে, কিন্তু বন্দর তো শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না। এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্ন। এই সমন্বয় যদি ঠিকমতো না হয়, দক্ষতা একটা লেভেল পর্যন্ত বাড়লেও বাড়তি বিনিয়োগ করেও লাভ হবে না। ইকোনমিকসে বলা হয় ‘ডিক্লাইনিং মারজিনাল প্রোডাক্টিভিটি’। মানে সবকিছু বিনিয়োগ দিয়ে বাড়ানো সম্ভব না, অন্য সংকটগুলো থেকে গেলে। যেমন বাংলাদেশ বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করছে, অথচ জ্বালানি সমস্যার জন্য সবই মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। এখানে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়িয়ে কী করবেন যদি জ্বালানিই দিতে না পারেন?
দুর্নীতি বন্ধ করার অজুহাতে তদন্ত কিংবা প্রশাসনিক সংস্কার না করে পুরো টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?
মোটেই যৌক্তিক নয়। এখানে শুধু মানুষ পরিবর্তন হবে। সিস্টেম একই থাকবে। উল্টো দেখা যাবে যেসব কর্মচারী বহুদিন ধরে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তাঁরা চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন। যেকোনো প্রতিষ্ঠানে জনবলের অভিজ্ঞতা একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজি। এটা সত্য যে জনবলের কিছু অংশ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাধাগ্রস্ত করতে পারে। কিন্তু প্রশাসনিক সংস্কার কীভাবে হবে, কাকে কার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেবে; তার ওপর নির্ভর করে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস দুর্নীতিমুক্ত হওয়া নিশ্চিত করতে পারে কি না। বিদেশি কোম্পানি এসে যদি প্রশাসনিক সংস্কার করেও, তা আসলে কতটুকু দুর্নীতিকে চোখের আড়াল করবে আর কতটুকু দূর করবে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাবে। দেখা যাবে দুর্নীতির কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে, অর্থাৎ এর সঙ্গে বেনিফিশিয়ারি গ্রুপ পরিবর্তন হয়েছে।
বিদেশি অপারেটর নিয়োগ না করে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সংস্কারের মাধ্যমে এনসিটির দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব ছিল কি?
সরকার চাইলে এগুলো করতে পারে। সেজন্য সরকারকেই তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। সমস্যা হলো, কঠিন কাজ সরকার করতে চায় না, এড়িয়ে চলে। যেহেতু বহু রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সরকারকে মীমাংসা করতে হয়, তাই সরকার বিদেশিপক্ষের ওপর ছেড়ে দিতে চায়। এটা আসলে নিজেদের ব্যর্থতাকেই এক অর্থে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড কিংবা সিঙ্গাপুরের পিএসএর মতো আন্তর্জাতিক অপারেটররা নিজেদের দেশের বন্দর কোনো বিদেশি কোম্পানিকে না দিয়ে নিজেরা পরিচালনা করে দক্ষতা অর্জন করেছে। এই দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ কেন নিজস্ব দেশীয় সক্ষমতা গড়ে তুলছে না?
বাংলাদেশের সরকার কঠিন কাজ করতে আগ্রহী না। নিজ সক্ষমতা অর্জনে যেই পরিশ্রম, তা করার প্রবণতা সরকারের মধ্যে নেই। লুটপাট, দুর্নীতি করে কোনোভাবে চালিয়ে দিয়ে তারা দায় সারতে চায়।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী বিদেশি অপারেটর পরবর্তী সময়ে যে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক-বিরোধী অবস্থান নেবে না, তার নিশ্চয়তা কতটুকু?
কোনো নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য উন্নত দেশগুলো এখন আগের চাইতেও বেশি প্রটেকশনিস্ট পলিসি গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ নিজ দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে অতিরিক্ত শুল্ক বসাচ্ছে, নিজ দেশের ব্যবসার নতুন নতুন বাজার তৈরি করতে গিয়ে অন্য দেশকে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য করছে। বাণিজ্যে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। আগে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দেশগুলো যেই সুবিধা পেত, সেগুলো কমে আসবে। অসম ক্ষমতা সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ ভূরাজনৈতিক ঘুঁটির চালে পরিণত হতে পারে। জাতীয় স্বার্থ এ রকম ক্ষেত্রে পদদলিত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকবে।
জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম বন্দরের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নীরবতার কারণ কী?
দুটি দলের কোনোটিই ভূরাজনৈতিক এই চলমান দ্বন্দ্বে শক্তিশালী অবস্থান নিতে চায় না। স্বল্প মেয়াদে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি সংহত করার জন্য তারা পপুলিজমের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রাখে। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের স্বার্থরক্ষার দায় তারা নিতে চায় না। মুখে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু বাস্তবায়ন করতে হলে যেই রাজনৈতিক আদর্শ দরকার তা থেকে তারা অনেক দূরে অবস্থান করে। দুটি দলই মার্কিন সরকারের কাছে নমনীয় থাকতে চায়, তাদের গুডবুকে থেকে পরনির্ভরশীলতার আদর্শেই নীতি গ্রহণ করে। কাজেই তারা বন্দর ব্যবস্থায় দেশীয় সক্ষমতার চেয়ে পরনির্ভরশীলতার পথই বেছে নিচ্ছে।
সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আজকের পত্রিকাকে ধন্যবাদ।
