সংবাদ · সাধারণ
কোটি টাকার সুপারির হাটে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত খাজনার চাপ
২০/১০/২০২৬

পিরোজপুর জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল সুপারি। আকর্ষণীয় রং, আকার ও গুণগত মানের কারণে জেলা পেরিয়ে দেশজুড়ে রয়েছে পিরোজপুরের সুপারির ব্যাপক চাহিদা। কম খরচে তুলনামূলক লাভ বেশি হওয়ায় এ অঞ্চলে দিন দিন সুপারি চাষ জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পিরোজপুরের প্রায় ৪ হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদিত হয়। নাজিরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামকাঠী হাট ছাড়াও কাউখালী, চলিশা, পাঁচপাড়া ও ঘোষেরহাটসহ ১০ থেকে ১২টি হাটে মৌসুমে চলে দেদার কেনাবেচা। নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় ট্রলার ও সড়কপথে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, মুন্সিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা সুপারি কিনতে আসেন। এমনকি এলসির মাধ্যমে এ সুপারি ভারতেও রপ্তানি হয়।হাট ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে ২১ ঘার বা ২১০টি কাঁচা-পাকা সুপারি (এক কুড়ি) বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। আর শুকনো সুপারি প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়। সপ্তাহের রবি ও বুধবার বসা শ্রীরামকাঠী হাটে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ টাকার সুপারি লেনদেন হয়।তবে সুপারির ভালো দাম ও বাম্পার ফলন থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত ও নিয়মবহির্ভূত খাজনা আদায়ের কারণে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শ্রীরামকাঠী হাটে একাধিক ধাপে চড়াও খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অন্য হাটে কুড়িপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা নেওয়া হলেও এখানে নেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। এমনকি বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।পটুয়াখালী থেকে আসা ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, “শ্রীরামকাঠী হাটে সুপারির মান ভালো হলেও অনিয়ন্ত্রিত ইজারা ও অতিরিক্ত খাজনার কারণে দূরদূরান্তের ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি দ্রুতই ধসে পড়বে।”একাধিক ধাপে খাজনা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদারের প্রতিনিধি রুহুল আমিন শেখ বলেন, “আমি ইজারাদারদের কাছ থেকে শুধু ‘চড়ি খাজনা’র ডাক নিয়েছি। প্রতি চড়িতে ২০ টাকা উঠাই। একাধিকবার বা বস্তাপ্রতি কেন খাজনা নেওয়া হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।”অভিযোগের বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাতুন্নেসা (এশা) জানান, নাজিরপুরে প্রায় ৬৭০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হচ্ছে এবং বাজারে ভালো দাম রয়েছে। তবে হাটে কৃষকদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইজারাদার যদি সরকারি টোল চার্ট লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকেন, তবে তদন্ত করে দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ব্যবসায়ীদের দাবি, খাজনা আদায় প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহনীয় করা গেলে ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামকাঠী হাট আবার আগের মতো জমে উঠবে এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও প্রসারিত হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗