বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা বলেছেন ভারতে চলমান আন্দোলনের আলোচিত ছাত্রনেতা নেহা বোরা। তার ওই মন্তব্যে দেশটিতে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র দেখছে ক্ষশতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেছেন, নেহা বোরার বক্তব্য ভারতে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার ‘খোলামেলা স্বীকারোক্তি’।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রেরণা
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিওতে নেহা বোরাকে বলতে শোনা যায়, ভারতে বর্তমানে যে জেন-জি আন্দোলন চলছে, তা বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল।
বাংলাদেশের তরুণদের আন্দোলনের পথ দেখানোর জন্য অভিনন্দনও জানান তিনি। একই সঙ্গে, দুই দেশের তরুণদের মধ্যে সংহতির ওপর গুরুত্ব দেন নেহা।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুরু হওয়া আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনও একই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে ভারতের তরুণদের লড়াইয়েরও মিল রয়েছে।
নেহা বোরার বয়স ২৯ বছর। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাস্থেটিকসে পিএইচডি করেছেন।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির অভিযোগ
নেহা বোরার বক্তব্যের ভিডিও সামনে এনে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার রাজনৈতিক সহযোগীরা শুধু সরকারের বিরোধিতা করতে চান না, বরং ভারতে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন।
ভাণ্ডারির দাবি, বাংলাদেশে যেভাবে সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে, ভারতে তা পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা চলছে।
নির্বাচন কমিশনবিরোধী আন্দোলনে নেহা
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করছেন বিরোধী দলগুলোর নেতারা। ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’র (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাও।
চলতি সপ্তাহে তিনি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিলে অংশ নেন।
এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, এসব বিক্ষোভকে আলাদা আলাদা আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার কথায়, সব প্রতিবাদই একটি আন্দোলনের অংশ।
রাহুল গান্ধী বলেন, সংবিধান রক্ষার জন্য যারা আন্দোলন করছেন, তারা যে সংগঠন বা রাজনৈতিক ধারারই হোন না কেন, বিরোধী জোট তাঁদের পাশে থাকবে।
আন্দোলনে পরিচিত মুখ নেহা বোরা
ভারতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন নেহা বোরা। তিনি হিন্দি ও ইংরেজিতে বক্তব্য দেন। তার বক্তৃতায় সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্য এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত জুলাইয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনেও অংশ নেন তিনি। দিল্লির ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে তার দেওয়া বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর থেকে দিল্লিতে বিভিন্ন বিক্ষোভে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের সময় তাকে একাধিকবার আটক করা হয়। পরে মুক্তি পেয়ে আবারও বিক্ষোভে যোগ দেন।
নেহার মতে, শুধু রাজনৈতিক আদর্শ নয়, মানুষের মনে তৈরি হওয়া আশাও আন্দোলনের বড় শক্তি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভয় যেমন ছড়িয়ে পড়ে, আশাও তেমনি ছড়িয়ে পড়তে পারে। মানুষ এখন সাহস পাচ্ছে, কারণ তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে সাহস দেখানো সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/
