এবারের মৌসুমে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময়সীমা ৪৫ দিন বাড়িয়ে সাড়ে চার মাস করা হয়েছে। আর একদিনে সেখানে যেতে পারবেন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক, যা আগে ছিল দুই হাজার।
রোববার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
এ পথে চলাচলের জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে নৌযান মালিককে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াত করতে পারবেন। এ সময়ে নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
পর্যটকের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি হতে পারবে না। দ্বীপে ভ্রমণের জন্য পর্যটক প্রতি ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
এর বাইরে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেসব এবারও কার্যকর থাকবে বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে—
• পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকেট কিনতে তে হবে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকেট অবৈধ বলে গণ্য করা হবে।
• দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি ও পর্যটক সংখ্যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
• নভেম্বর মাসে কেবল দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।
• এর পরের সময়ে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে।
• দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ।
• কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
• সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক বা যে কোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
• পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক (চিপসের প্যাকেট, স্ট্র, মিনিপ্যাক সাবান-শ্যাম্পু, ছোট প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি) ব্যবহার করতে বারণ করা হয়েছে।
• প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ভ্রমণের অনুমোদন দেওয়া ১৩৫ দিনই সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক বেড়াতে গেলে মোট ভ্রমণকারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ জনে। তাতে পুরো মৌসুমে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি বাবদ আদায় হতে পারে ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
