ফুটবল বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। শেষদিকে মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে জয় তুলে নেয় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই ম্যাচে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও ফুটবলার মোস্তাফা জিকো। এবার এই দুজনকেই শাস্তি দিল ফিফা।
সোমবার মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এক বিবৃতিতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানিয়েছে। তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ জানতে চেয়ে আবেদন করেছে সংস্থাটি। আইনি দিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করছে তারা।
রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মিশরের মোস্তফা জিকো বলেছিলেন, ‘রেফারি অন্যায় করেছেন, অন্যায় করেছেন। রেফারি একদমই ফেয়ার ছিলেন না। তিনি একজন জালিম। এটি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার তিনি অবিচার করেছেন।’
সেই ঘটনার জেরে জিকোকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। একই ঘটনায় মিসরের কোচকে হোসামকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া মিসরের জাতীয় দলের পরিচালক ও হোসামের যমজ ভাই ইব্রাহিম হাসানকেও তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গত ৭ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান কোচ হোসাম হাসান। তার অভিযোগ ছিল, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে দল। অন্যদিকে, ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারিকে অপমান করার অভিযোগে পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন জিকো
ম্যাচে জিকোর একটি গোল বাতিল হয়েছিল আক্রমণের আগে ফাউলের কারণে। পরে স্কোর ২-২ থাকা অবস্থায় ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টির দাবিতে আবেদন করেন মিসরের খেলোয়াড়ের। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
রেফারিং নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে ফিফার রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা ম্যাচ পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তার মতে, এ ধরনের অভিযোগ রেফারি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি হুমকির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে মিসরের ম্যাচগুলোতে কোচ হোসাম ও পরিচালক ইব্রাহিমকে নাও পাওয়া যেতে পারে।
এমএমএম/
