

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন-২ এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি ভবনে প্রবেশ করেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে নতুন উপাচার্যের এ প্রবেশকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের পর কয়েকজন ব্যক্তি উপাচার্যকে চেয়ারে বসিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ১১ ও ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্যের ঢাকায় থাকার কথা ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে নিয়মিত পাহারা দেননি। এ সুযোগে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন বলে ধারণা করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেরোবিতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেও ক্লাস, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দিনেও ক্লাস নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষক। এতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একই অনুষদের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও র্যালিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। তবে র্যালিতে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। বিভাগটির কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে র্যালিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি। জানা গেছে, র্যালি চলাকালে সকাল ১০টায় ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সজিব মিয়া একটি ক্লাস নেন। এতে ওই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা র্যালিতে অংশ নিতে পারেননি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া একই শিক্ষকের দুপুর ২টায় আরও একটি ক্লাস নির্ধারিত রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ দিন। অথচ এ দিনেও আমাদের ক্লাস নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ক্লাস বন্ধ থাকার কথা। বিভাগ থেকে আমাদের র্যালিতে অংশগ্রহণসহ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কোর্স শিক্ষক ড. মো. সজিব মিয়া বলেন, ‘আজকে ছুটি, ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যাবে না, বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নূর আলম সিদ্দিক বলেন, এটি অফিশিয়াল কোনো ক্লাস নয়। আর ক্লাস তো নেওয়ার কথা না। আমি বিভাগে যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখব। র্যালিতে বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নানী অসুস্থ। এ কারণে আমি এখানে আছি। বিষয়টি আমি বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখব।’ অন্যদিকে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আপেল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা র্যালিতে ছিলাম। আমি ও আরেকজন এবং আমাদের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। এ কারণে শেষ পর্যন্ত আমরা র্যালিতে থাকতে পারিনি।’ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছুটির দিনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমরা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করব। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থীদের র্যালিতে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘র্যালির ব্যানার তৈরি করে দেওয়ার পরও যদি তারা অংশগ্রহণ না করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা নেই, বিষয়টি তারই বহিঃপ্রকাশ।

পবিপ্রবির উপ-উপাচার্যসহ বাংলাদেশি গবেষক দলের জাপান সফর
জে এস পি এস–ইউজিসি যৌথ গবেষণা প্রকল্পের আওতায় জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশি গবেষক দলের সদস্যরা। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সফরকালে তাঁরা সেমিনারে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের গবেষণা কার্যক্রম, গবেষণাগার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। গবেষণা প্রকল্পটির বাংলাদেশ অংশের গবেষক দলের প্রধান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামীম মিয়া। বাংলাদেশি গবেষক দলের সদস্য হিসেবে সফরে অংশ নেন পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের। জাপানের গবেষক দলের প্রধান তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান গবেষণাগারের অধ্যাপক ড. তমো ইউকো মেকিনোর নেতৃত্বে বাংলাদেশের গবেষক দল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা গবেষণার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা নেন এবং সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও অন্যান্য স্থাপনাও ঘুরে দেখেন তাঁরা। জে এস পি এস–ইউজিসি যৌথ গবেষণা প্রকল্পের আওতায় এ সফরে দুই দেশের গবেষকদের মধ্যে গবেষণাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বেরোবিতে ছাত্র ফেডারেশনের মৌন প্রতিবাদ
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবিতে মৌন প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নীরব প্রতিবাদ জানান। সমাবেশ থেকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষা, তাঁদের ভোগান্তি লাঘব এবং পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানায় সংগঠনটি। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বলেন, চাকরিপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতির জন্য সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় তাঁদের অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের শ্রম, মেধা ও স্বপ্নের মর্যাদা রক্ষায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সমাবেশে সংগঠনটির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনানুগ জবাবদিহির আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো ও ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বেরোবি শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার সোহাগ, সদস্যসচিব মিজানুর রহমান মিনারসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দপুরে প্রাঃ বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে দেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাঙালিপুর নিজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গচুর ও দপ্তরী কাম প্রহরীকে মারধর করে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। রবিবার (১১ অক্টোবর) বেলা দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে ওই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দেওয়া স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের সড়ক সংলগ্ন সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গচুর করা হয়। এসময় বাঁধা দিতে গেলে বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী মো. গোলাম রব্বানীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গতে বাঁধা দেওয়ায় অভিযুক্তদের একজন গোলাম রব্বানীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে আবারও আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। আহত গোলাম রব্বানী বর্তমানে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো নিয়ে দু:শ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকেরা। সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গচুর ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা। স্মারকলিপিতে মো. রুহুল আমিন (বাবু), মো. আমিন ও মো. আরিফসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গচুর ও দপ্তরীকে মারধরের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে: ঢাবি উপাচার্য
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় সেমিনার ও দিনব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অ্যালামনাই ফ্লোরে ‘ Lived Experiences to Meaningful Change: Promoting Clinical Social Work Practice in Mental Health’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( CSWAB) এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( CSWAB)-এর সভাপতি ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার। তিনি সেমিনারে মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম শাহীন খান। সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক অংশগ্রহণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মানুষের অর্থ-সম্পদ কিংবা বাহ্যিক সাফল্য থাকলেও মানসিক সুস্থতা ব্যাহত হলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই একটি মানবিক ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও সংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়নে সেবাগ্রহীতাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। মানসিক কষ্ট, সহায়তা পাওয়ার অভিজ্ঞতা কিংবা সেবা গ্রহণের পথে প্রতিবন্ধকতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলে বিদ্যমান সেবার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং সেবাকে আরও কার্যকর, সহজলভ্য ও মানবিক করা সম্ভব। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সংকোচ ও নেতিবাচক ধারণা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষের অনুভূতি ও সমস্যাকে মর্যাদার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের কথা সহমর্মিতার সঙ্গে শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। উপাচার্য আরও বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। কারণ, একজন মানুষের মানসিক সমস্যার সঙ্গে পারিবারিক টানাপোড়েন, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক প্রতিকূলতার মতো বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। তাই ব্যক্তির সমস্যা বোঝার পাশাপাশি তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজ শেখার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের পাঠ্যক্রম প্রণয়নে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা এবং পেশাগত স্বীকৃতি, নৈতিক মানদণ্ড ও সেবাগ্রহীতাদের অধিকার নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে অবদান রাখতে এবং ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মের বিকাশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, মানসিক ও সামাজিক সংকট মোকাবিলায় সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি এর অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করা জরুরি। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে থাকা পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় নিতে হবে। এসব ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো যথেষ্ট নয়; এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম। প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক পুনর্বাসনের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানসিক ও সামাজিক সংকটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ সহায়তা প্রদান এবং তাঁদের পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। এদিকে, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতর এবং এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বরে দিনব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মেহ্জাবীন হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এবারের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জীবনের অভিজ্ঞতার কণ্ঠস্বর শোনা: বাস্তব কণ্ঠ, বাস্তব পরিবর্তন’। প্রতিপাদ্যের আলোকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা, তাঁদের প্রয়োজন অনুধাবন করা এবং সেই অনুযায়ী সেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


