ফরিদপুর মেডিকেলে অচল ক্যাথল্যাবে ৯ কোটির বিল, অভিযান দুদকের
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় দশ বছর ধরে ৯ কোটি টাকার ক্যাথল্যাব যন্ত্র চালু না করেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করার জালিয়াতির সত্যতা পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযান চলমান রয়েছে।
অভিযানে ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজের নেতৃত্বে আট সদস্য অংশ নেন। অভিযানকালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন তারা। এ সময় অনেক রোগী ও স্বজনেরা হয়রানি ও দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ তুরে ধরেন। বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে না পারা, টাকা ছাড়া ট্রলি না পাওয়া, চিকিৎসক না পাওয়া, ওষুধ না পাওয়া সহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া দুদক টিম হাসাপাতালের বিভিন্ন সময়ের মালামাল ক্রয়ের নথি পর্যবেক্ষন করেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে থাকা মূল্যবান বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময়ে হাসপাতালটির কার্ডিওলজি বিভাগের ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাথল্যাব যন্ত্র পড়ে থাকার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে কার্ডিওলজি বিভাগের ক্যাথল্যাব মেশিনটি ফিলিপস ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। যেটি ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে হাতে পান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
যন্ত্রটির মাধ্যমে হার্টে রিং পড়ানো ও এনজিওগ্রাম সহ হৃদরোগ চিকিৎসায় বিভিন্ন জটিল পরীক্ষা-নিরিক্ষা ও কাজ করা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। মূল্যবান অত্যাধুনিক যন্ত্রটি স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরেও চালু না করে ফেলে রাখা হয়।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের দায়িত্বরত ইলেকট্রো মেডিকো টেকনিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম জানান, মেশিনটি স্থাপনের পর চালু করে যাওয়ার কথা ছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু তৎকালীন সময়ে মেশিনটি চালু না করেই সম্পূর্ণ টাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ হয়েছে। এ ছাড়া মেশিনটির চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি প্রেরণ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে তিনি দাবি করেন।
সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১১ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও চিঠির অনুলিপি উত্থাপন করেন।
এ বিষয়ে দুদক ফরিদপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ জানান, হাসপাতালে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এ অভিযান চলছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এনকেবি নয়ন/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
শিবচরে অধিগ্রহণে আটকে আছে নির্মাণ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ, শিবচরে চান্দেরচর বাজারের উত্তর পাশের এলাকায়। ছবি: খবরের কাগজ
-->মাদারীপুরের শিবচরে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পাঁচ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বেড়েছে ভোগান্তি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) শিবচর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার চান্দেরচর বাজারের উত্তর পাশে খালের ওপর ২০২৩ সালে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চান্দের বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপর সেতুর মূল কাঠামোর কিছু অংশ নির্মাণ করা হলেও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সেতুর নির্মাণসামগ্রীর বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। সেতুর পাশে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
আরও পড়ুন
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের অনেকেই এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিবচর উপজেলার উমেদপুর, ভদ্রাসন, দ্বিতীয় খণ্ড, কাদিরপুর ও ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের মানুষকে বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বর্ষার সময় উৎপাদিত কৃষিপণ্য স্থানীয় চান্দেরচর বাজারসহ কয়েকটি বাজারে নিতে অ্যাপ্রোচ সড়কের বেহাল দশায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীদেরও প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় চান্দেরচর বাজারের ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাজ বন্ধ, কারও কোনো দায়িত্ব নেই। এই বাজারে প্রতিদিন ২০-২৫ হাজার লোক আসে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। সাধারণ জনগণ মালামাল নিতে-আনতে ভোগান্তিতে পড়েন। প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই দ্রুত তারা যেন সেতুটি করে দেয়।’
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সেতুটির কাজ বন্ধ রয়েছে। এখানে আর কোনো কাজ হয়নি। সেতুটি না হওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আশপাশের ইউনিয়নের অনেক লোক ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে ঢাকাগামী মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। আমাদের দাবি, অতি দ্রুত যেন এই কাজটি শেষ করা হয়।’
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক সিদ্দিক খান বলেন, ‘আমরা জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী ইমন মোল্লা বলেন, ‘চান্দেরচর বাজারের পাশের সেতুটির কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জনভোগান্তি হচ্ছে। ভোগান্তি রোধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন। চার ধারা ইতোমধ্যে জারি হয়েছে, বাকি কাজ সম্পন্ন হলে অতিদ্রুত এই সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে।’
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজারে অবকাঠামো আছে, যাতায়াত নেই
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে স্থানীয়রা সেতু ব্যবহার করতে পারছেন না। মৌলভীবাজারের রাজনগরের ইসলামপুর থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন। ২০২০ সালের জুলাইয়ে এই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের লাঘাটা নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কথা ছিল পরের বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ হবে। অথচ এখন পর্যন্ত তা মানুষের যাতায়াতের উপযোগী হয়নি।
সেতুর অবকাঠামো তৈরি হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে ১২ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষার কারণে মাটির অভাবে সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া আইনি জটিলতার কারণে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজনগর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কামারচাক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধলাই ফেরিঘাট সড়কে যাওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে ২০২০ সালের ৬ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটি বানাতে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। কাজ পায় ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেবি)। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। অথচ সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এমন অবস্থায় দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর, কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
জানা গেছে, এলাকায় কৃষিপণ্য ও হাওরের মাছ বাজারে নেওয়া কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা। প্রায় দ্বিগুণ খরচে কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারে নিতে গিয়ে কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীরা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় লাঘাটা নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ইসলামপুর এলাকার শিক্ষার্থী সুমি আক্তার জানান, সেতুটি অসম্পূর্ণ থাকায় বর্ষাকালে নদী পারাপারে তাদের ঝুঁকি নিতে হয়। দ্রুত সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
কৃষক সুলেমান মিয়া বলেন, ‘সেতু কার্যকর না থাকায় জমির ফসল নিয়ে নদী পার হতে অনেক সময় ও টাকা লাগে। বর্ষায় নৌকা বা বাঁশের সাঁকোই আমাদের ভরসা। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।’
দক্ষিণ ইসলামপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে স্থানীয়দের সময় ও অর্থ দুটিরই ব্যয় হচ্ছে। তারা দ্রুত দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রবীণ ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম দ্রুতই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও সেতুটি পুরোপুরি চালু হয়নি। এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেও মানুষ যদি এর সুফল না পান, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক।’
এদিকে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এলজিইডির রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, ‘মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণেও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। বর্তমান অবস্থাতেই সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’
আরও পড়ুন
দাউদকান্দিতে ৮ হাজার মানুষের ভরসা কাঠের সেতু
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
খালের ওপর নির্মিত কাঠের সেতুটি দিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। দাউদকান্দির বিরবাগগোয়ালী গ্রামের খিরাই খাল এলাকা। ছবি: খবরের কাগজ
-->কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিটেশ্বর ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের আট হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি কাঠের সেতু। বিরবাগগোয়ালী গ্রামের খিরাই খালের ওপর নির্মিত এই সেতু দিয়ে বছরের পর বছর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন চন্দ্রশেখরদী, পাঁচভিটা, কালাসাধাদীয়া, নোয়াদ্দা, বিরবাগগোয়ালী গ্রামের মানুষরা।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সেতুটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের উদ্যোগে খিরাই খালের ওপর গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রশস্ত সেতুটি।
সরু এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয়দের দাবি, ৫ গ্রামের ৮ হাজারের বেশি মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। প্রায় ২০ বছর ধরে ভাঙা-মেরামতের মধ্য দিয়ে কোনোভাবে টিকে আছে সেতুটি।
আরও পড়ুন
তবে এখনো কাঠের সেতুর স্থলে নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী পাকা ব্রিজ।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে সেতুটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছি। বিগত সরকারের আমলেও স্থানীয় নেতারা জাতীয় নির্বাচনের সময় সেতুটি পাকা করার আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর আর খোঁজখবর নেয়নি। এবার জাতীয় নির্বাচনেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা সেতুটি পাকা করনের আশ্বাস দেন। আশ্বাসে আশ্বাসে ২০ বছর চলে গেল পাকা সেতু আর পেলাম না।
নোয়াদ্দা গ্রামের রাবেয়া বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। ১৫-২০ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি। কিন্তু স্থায়ী সেতু পাচ্ছি না। কবে এই সেতু হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’
চন্দ্রশেখরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রিয়ান বলেন, ‘বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়া আসা করতে এই সেতুটি দিয়ে আমাদের অনেক ভয় লাগে। কখন জানি ভাঙা সেতুটি ভেঙে পানিতে পড়ে গিয়ে স্কুলের বই খাতা ভিজে যায়।’
কালাসাধারদিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ‘প্রতিবছর সামান্য বাজেটে গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সেতুটি তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটি বেশি দিন টেকে না। ফলে সারা বছরই মানুষের দুর্ভোগ লেগে থাকে। একটি পাকা সেতু নির্মাণ হলে এই পাঁচ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।’
স্থানীয়রা জানান, সেতুটির বিষয়ে ইউপি সচিব উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে আবেদন করেছেন। দীর্ঘ বছর ধরে সেতুটি হবে-হবে বলা হলেও এখনো হয়নি। এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘উপজেলার জন্য নতুন ৭০টি ব্রিজের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে এটি রয়েছে কি না আমার জানা নেই। তবে এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আরও পড়ুন
কঠোর অবস্থানে প্রশাসন নজরদারিতেও থামছে না ইলিশ নিধন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->নদীতে টহল দিচ্ছে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ। অভিযানে জব্দ করা হচ্ছে অবৈধ জাল। আটক হচ্ছে জেলে, দেওয়া হচ্ছে জেল-জরিমানা। তবু বন্ধ হচ্ছে না মা-ইলিশ নিধন। কোথাও অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সংসার চালানোর মতো সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন জেলেদের অনেকে। সব মিলিয়ে বরিশাল বিভাগে মা-ইলিশ রক্ষার অভিযান কার্যকর করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুত নিষিদ্ধ করেছে সরকার। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায়ও চলছে সমন্বিত অভিযান। তবে বিস্তীর্ণ জলসীমায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অবৈধ মাছের বাণিজ্য এবং অভিযান পরিচালনায় অর্থসংকটের কারণে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গত শুক্রবার বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীর সাওরা ও অন্তরবাম এলাকায় অভিযানের সময় কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। একদল জেলে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে অভিযানে বাধা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড ১০ থেকে ১১টি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারসহ সালাহউদ্দিন ও শাহ আলম নামে দুই জেলেকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও পাঁচ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
আরও পড়ুন
ইতোমধ্যে মা-ইলিশ সংরক্ষণে বিভাগের ছয় জেলায় তিন দিনে ৩১৯টি অভিযান চালানো হয়েছে। ৮ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অভিযানে ৩৭১ কেজি ইলিশ ও ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। এ সময় ২৪টি মামলা, ৬০ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা এবং ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা ও দুর্গম চরাঞ্চলে একসঙ্গে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা কঠিন। কিছু জেলে রাতের অন্ধকারে কিংবা প্রত্যন্ত ঘাট ব্যবহার করে নদীতে নামেন। অবৈধ মাছের কেনাবেচায় যুক্ত ব্যক্তিরা সক্রিয় থাকলে শুধু নদীতে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
কারেন্ট জালসহ নিষিদ্ধ জালের সহজলভ্যতাও বড় সমস্যা। এসব জাল দিয়ে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরা সম্ভব। ফলে নদীতে জাল জব্দের পাশাপাশি জালের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করা এবং অবৈধ মাছের ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় কর্মহীন জেলেদের পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বিভাগে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন জেলের জন্য ৮ হাজার ৯৬২ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে মৎস্য বিভাগের হিসাবেই নিবন্ধিত ৬৩ হাজার ৭৫৯ জন জেলে এই সহায়তার বাইরে থাকবেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিতের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলে পরিবারপ্রতি চালের বরাদ্দ ২৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১০০ কেজি করতে হবে। তার মতে, ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জরুরি হলেও পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে জেলেদের দুর্ভোগ কমবে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) বরিশাল জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, মৎস্যজীবীদের অভাবের মধ্যে রেখে ঘরে আটকে রাখা যাবে না। প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা তৈরি, সময়মতো খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং সহায়তার পরিমাণ বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিকল্প কাজের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এবার ভিজিএফের চালের বরাদ্দ আগেভাগে আসায় সুবিধা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। অভিযান কমে গেলে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
