অ্যান্টার্কটিকার একটি দ্বীপে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঙ্গুইন কলোনির বসবাস ছিল। তবে, ২০১১ সালের পর থেকে সেখানে ‘চিনস্ট্র্যাপ’ পেঙ্গুইনের সংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের (বিএএস) নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের জাভোদোভস্কি দ্বীপে ২০১১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘চিনস্ট্র্যাপ’ পেঙ্গুইনের সংখ্যা ৬৩ শতাংশ কমেছে।
বিজ্ঞাপন
গবেষণা অনুযায়ী, ২০১১ সালে দ্বীপটিতে প্রজননক্ষম চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের সংখ্যা আনুমানিক ১০ লাখ ৯০ হাজার ছিল। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ২ হাজারে। অর্থাৎ, এই সময়ে ৬ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পেঙ্গুইন হারিয়ে গেছে।
পেঙ্গুইন কলোনির পরিবর্তন মূল্যায়ন করতে গবেষকেরা ড্রোন জরিপ, আকাশ থেকে তোলা ছবি, স্যাটেলাইটের তথ্য এবং পেঙ্গুইনের শরীরে সংযুক্ত ট্র্যাকিং যন্ত্র ব্যবহার করেছেন।
বিজ্ঞাপন
গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই পতনের সঙ্গে দক্ষিণ মহাসাগরে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের সম্পর্ক রয়েছে। এর ফলে অ্যান্টার্কটিক ক্রিলের প্রাপ্যতায় পরিবর্তন এসেছে। ক্রিল একধরনের ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী, যা চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের প্রধান খাদ্য।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেওয়া বিএএসের পেঙ্গুইনবিষয়ক পরিবেশবিদ নরম্যান র্যাটক্লিফ বলেন, আমাদের ট্র্যাকিংয়ের তথ্য থেকে দেখা যায়, পেঙ্গুইনগুলো দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে অপেক্ষাকৃত শীতল পানিতে খাবার খুঁজতে পছন্দ করে। সেখানে তারা অ্যান্টার্কটিক ক্রিল পাওয়ার আশা করে। এই ক্রিলই তাদের খাদ্যের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।
প্রকাশিত গবেষণার এই ফলাফল সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই দ্বীপপুঞ্জে প্রজাতিটির বৈশ্বিক মোট সংখ্যার উল্লেখযোগ্য একটি অংশের বসবাস।
বিজ্ঞাপন
গবেষকেরা বলেছেন, পেঙ্গুইনের সংখ্যা কমে যাওয়ার ব্যাপকতা ও দ্রুতগতির বিষয়টি সংরক্ষণগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনকে ‘স্বল্প উদ্বেগের’ (লিস্ট কনসার্ন) প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
কেএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।