দুর্গাপুজো পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক, ঘুরে দেখছেন রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলি
কক্সবাংলা ডটকম(২০ অক্টোবর) :: দেশে দুর্গাপুজো পরিদর্শনে বেরোলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের রংপুর, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম— এই তিন জায়গার মণ্ডপগুলি ঘুরে দেখছেন তিনি। তারেকের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের শাসকদল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তারেকের প্রেস সচিব জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালেই বিমানে রংপুরে পৌঁছেছেন তারেক। সেখানকার রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পুজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন তিনি। সেখান থেকে দুপুরে রাজশাহী যান তারেক। সেখানে একটি পুজামণ্ডপ দর্শনের পর জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। রাজশাহী থেকে বিমানেই চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। সেখানেও মণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। সেখান থেকে রাতে ঢাকায় ফেরার কথা তাঁর। এর আগে তারেক ঢাকার মহাখালী ও বনানী পুজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ ওঠে। তবে ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি যতটা সঙ্কটজনক ছিল, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে কিছুটা হলেও উন্নতি ঘটেছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের একাংশের অভিমত।
এই আবহে দুর্গাপুজোর মরসুমে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সাম্প্রদায়িক আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছে সে দেশের পূজা উদ্যাপন পরিষদ। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা দাবি করেন, সিলেট, রাজবাড়ি, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল-সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও আক্রমণের ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। ১১টি মামলায় এ পর্যন্ত কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে লাগাতার অত্যাচার চলছে। অথচ জয়া আহসান-সহ আরও অনেকে, যাঁরা এ দেশে এসে কাজ করছেন, রোজগার করছেন, তাঁরা সে সব নিয়ে এক বারের জন্যও মুখ খুলছেন না।’’ শমীকের ক্ষোভ এ রাজ্যের ‘খ্যাতনামাদের’ নিয়েও। ‘‘প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এত বড় নাম। তিনি বা তাঁর মতো অনেকে এই বাংলাদেশি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে উঠছেন-বসছেন, নানা অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাজির হচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশে উৎসবের মরসুমে সংখ্যালঘুর উপর লাগাতার আক্রমণ নিয়ে তাঁদের কোনও উদ্বেগ রয়েছে বলে মনেই হচ্ছে না।’’ শমীক অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতেই এক দল লোক বামদের বই বিপণি ভাঙা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছেন।
দিন কয়েক আগে হিন্দু নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব। প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমার সাধ্যের মধ্যে যা করা সম্ভব, সেই চেষ্টা আমি করব।’’ দুর্গাপুজো উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি তহবিল থেকে যে টাকা দেওয়া হয়, এ বছর তার পরিমাণ এক কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ছুটিও বাড়ানো হয়েছে এক দিন।
রাজধানী ঢাকায় পুজোর সংখ্যা তিনটি কমলেও গোটা দেশে পুজোর সংখ্যা দেড় হাজার বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১। এ বার মন্ত্রিসভার বেশ কয়েক জন সদস্যকে নিয়ে দেশের নানা প্রান্তে পুজোমণ্ডপ ঘুরে দেখছেন তারেক। সংখ্যালঘুদের ইতিবাচক বার্তা দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতেই তারেকের এই পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।
