বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম পুলিশকে এম্পাওয়ার (ক্ষমতায়ন) করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা দিনে-রাতে কেউই সমাজে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবো না। বাংলাদেশ পুলিশকে মানবিক পুলিশ, বন্ধুসুলভ পুলিশ হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
আইজিপি আজ রবিবার দুপুরে বাগেরহাটে জেলা পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
বাগেরহাট জেলার পুলিশ সুপার মোঃ জামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নতুন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যগণসহ বিভিন্ন শ্রেণির জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের উদ্যোগের ফলে আমাদের যে সমস্যাগুলো আছে তা অচিরেই সমাধান হবে। তিনি বলেন, টিঅ্যান্ডওই-তে পাস করা গাড়ির সংখ্যার চেয়ে পুলিশের প্রায় আড়াই হাজার গাড়ি কম আছে। এছাড়া, ৮ থেকে ২০ বছর বয়সি গাড়ির সংখ্যাও এ সংখ্যার চেয়ে কম নয়। সরকার ৫ হাজার ৮০০ গাড়ি কেনার নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা একনেকে পাস হয়েছে।
তিনি বলেন, পুলিশের জনবল সংকট রাতারাতি শেষ করা যাবে না। প্রতিবছর কমপক্ষে ১৫ হাজার জনবল নিয়োগ হবে। জনবল সংকট কেটে যাবে, লজিস্টিকস সংকটও কেটে যাবে। এখন শুধু প্রয়োজন আপনাদের সকলের সহযোগিতা। তিনি বলেন, মবের সাথে উসকানি না দিয়ে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষ পুলিশকে সহযোগিতা করুন।
পুলিশ প্রধান বলেন, সকলের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন দরকার। আমাদের বেকারত্ব আছে, প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার বেকারের সংখ্যার সাথে যোগ হচ্ছে। তাদেরকে পুনর্বাসন করার জন্য মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের “জিরো টলারেন্স”। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং, মাদক, দুর্নীতি, জীবনের মান উন্নয়নসহ পনেরোটি সমস্যা সমাধান করতে পারবো।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আপনার দেখেছেন কিশোর গ্যাং নির্মূলের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং থানার অফিসার ইনচার্জ-কে নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। তিনি বলেন, ইউনিয়নে কে খারাপ লোক, কে কোথায়, কোন পাড়ায় মাদক গ্রহণ করে তা আপনারা জানেন। আপনারা পুলিশকে সহযোগিতা করুন, আমরা আপনাদেরকে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, যিনি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করবেন তাকে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে নেওয়া হবে।
পরে আইজিপি জেলা পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশ আয়োজিত বিশেষ কল্যাণ সভায় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন।
The post সমাজে স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পুলিশকে সহযোগিতা করুন: বাগেরহাটে আইজিপি appeared first on দৈনিক আমার কাগজ.
