মাত্র ছয় মাস আগে ২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা পঞ্চগড়-বোদা মহাসড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার অংশের বিভিন্ন স্থানে পিচের আস্তরণ উঠে পাথর বেরিয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে সৃষ্ট ছোট-বড় গর্ত ও ফাটলের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।
সরেজমিনে পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা থেকে বোদা উপজেলার ভাসাইনগর পর্যন্ত মহাসড়কটির বাস্তব চিত্র পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত এই সড়কের বিভিন্ন অংশ ফুলে উঠে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো নিয়মিত চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বা বৃষ্টির সময় এই গর্তগুলো ঠিকমতো বুঝতে না পারায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজের মানে অনিয়মের কারণেই সংস্কারের মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার বাসিন্দা মখলেছার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নামমাত্র বিটুমিন ও পাথর দিয়ে দায়সারাভাবে সড়ক মেরামত করায় কিছুদিন যেতে না যেতেই তা আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। জেমজুট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, বারবার জোড়াতালি দেওয়ার কারণে সরকারি অর্থের সঠিক সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। মোটরসাইকেলচালক সাব্বির হোসেন ও নিয়মিত যাত্রী রুবেল ইসলামের মতে, গর্ত এড়াতে গিয়ে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তারা সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো গভীরভাবে পরীক্ষা করে টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ধাক্কামারা থেকে ভাসাইনগর পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়কের এই সংস্কারকাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন হয়, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
তবে কাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সওজ পঞ্চগড়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন জানান, সড়কটি নিয়মিত তদারকি ও সংস্কার করা হচ্ছে। মূলত অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের কারণেই নবনির্মিত সড়কের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
